আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির পথে না গিয়ে জনগণের সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারি দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও এ নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস হাফেজ রবিউল বাশার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মিজ বিথিকা বিনতে হোসাইন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আরিফ আহমেদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনিসহ রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরা সবচেয়ে নির্যাতিত মজলুম জনতার জেলা। এখানে কোন রাজনৈতিক মামলা পেন্ডিং আছে তা আমি দেখতে চাইনা। তিনি দ্রুত এসব রাজনৈতিক মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
বর্তমান সরকার রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, একইভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজিও কঠোর হাতে দমন করা হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি দমনের পথে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক পরিচয়ে কোন অপরাধীদের ছাড় পাওয়ার কারণ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইন মন্ত্রী বলেন, একটি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।
বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মানুষের মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।
সাইবার আইন ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাবকমিটিতে পাঠান।
পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রী বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ও শহীদ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারকের কর্মকান্ডের কারণে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরকার এখন বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে। এ কাজে সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি সবার সহযোগিতা ও আস্থা কামনা করেন।
মন্ত্রী এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিচার বিভাগের স্থানীয় বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

