সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান। এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ এনে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবীর, জেলা বিএনপি সদস্য এডভোকেট আশেক ইলাহী মুন্না, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নূর জাহান পারভিন ঝর্ণা, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক অবস্থান জনআস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামের আদর্শের কথা বলে জনগণের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন ঘটনার অভিযোগ জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। মানুষের সেবার পরিবর্তে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ভিডিও একজন সংসদ সদস্যের মর্যাদা ও জনবিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর প্রতি ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে তার পদ বাতিলের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
পরে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তুলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকার মগবাজার এলাকার একটি বাড়িতে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বলে দাবি করা একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরাসহ দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে নিয়ে গঠিত এ কমিটি মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা জামায়েত অফিসে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা আজিজুর রহমান তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

