সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি খাল খননের পর প্রভাবশালী কর্তৃক মাছ ছেড়ে পুনরায় দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও খননকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী খালের একটি অংশে অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস ঢাকা’র অর্থায়নে সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে ২.২ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। প্রায় ২৫ একর কৃষি জমির মধ্যে খালটি বয়ে গেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ খালটি উন্মুক্ত থাকবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি খালের নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাছের পোনা ছেড়ে খালের ভিতর কঞ্চি দিয়ে দখল করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি খনন করা হলে পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগী সুশান্ত সরদার, অরুণ সরদার, দীপাঞ্জন মন্ডল সহ আরও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে খাল খনন শেষের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। তারা শুকনো মৌসুমে কৃষি ফসল ফলাতে খালের পানি কৃষকদের ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “মাটির নিচে লবণাক্ত পানি হওয়ার কারণে ও মিষ্টি পানির সংকট থাকায় কৃষকেরা বোরো মৌসুমে এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে ফসল ফলায়। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমী ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই খাল। এই খালটি খনন করার জন্য এর দু’পাড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা কৃষি জমিতে মাটি ফেলা হয়েছে। খালের পানি সকলে ব্যবহার করতে পারবে বিধায় আমদের কৃষি জমি নষ্ট হলেও মাটি রাখতে দিয়েছি।”
তারা বলেন, “খাল খননের সময় বলা হয়েছিল এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে আবারও প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। খলটি উন্মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ইসহাক আলী পাড় বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কোটের একটি ইনজাকশন আছে। তার কাগজপত্র যতদিন রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হবে ততদিন সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো। এছাড়াও এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমাকে ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় দিলে খাল থেকে মাছ ধরে নিব।”
ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ সকলের উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।”
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, “খবর পেয়ে সরজমিনে তদন্ত করে দেখা গেছে, সরকারিভাবে খালটি খনন করার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

