সাতক্ষীরার দেবহাটায় একটি মৎস্য ঘের থেকে হায়াত আলী (৪২) নামের এক কর্মচারীর ঝলসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যার পরপরই উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের একটি মৎস্য ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ঘের কর্মচারী হায়াত আলী সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ার খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ঘেরের কর্মচারী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হায়াত আলীর মরদেহ মৎস্য ঘের থেকে বাড়িতে নিয়ে এসে তড়িঘড়ি করে দাফনের চেষ্টা করা হয়। এসময় স্থানীয়রা নিহতের নাক-মুখ ফেটে যাওয়া ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ছেলা ও ঝলসানো অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে থানায় খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে দেবহাটা থানায় নিয়ে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে বা এসিড নিক্ষেপের কারণে তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি ঘেরের পাশে পুকুরের পাকা ঘাটে গোসল করার সময় স্ট্রোক করে পড়ে যান। সেসময় তার নাক মুখ ফেটে গেছে। তবে, গায়ের চামড়া উঠে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের দাবি, হায়াত আলী যে ঘেরে থাকতেন সেটা অনেক ভিতরে। সেখানে খাটিয়া নিয়ে যাওয়া সম্ভব না, তাই নেটের ভিতরে করে বাঁশ বেধে কাঁধে করে তাকে রাস্তার পাশে আনা হয়। আর একারণেই নেটের ঘষায় তার চামড়া উঠে গেছে।
তবে ঘের মালিক খেজুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার ঘেরে কোন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।
দেবহাটা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, শুক্রবার (৫ জুন) সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

