শনিবার । ১৩ই জুন, ২০২৬ । ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কালবৈশাখীর তান্ডবে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা: শিশুর মৃত্যু, বিদ্যুৎহীন ২০ হাজার গ্রাহক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

টানা তীব্র গরমের পর কালবৈশাখী ঝড় স্বস্তি আনলেও সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে রেখে গেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ। ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুৎ আজ শনিবারও সচল না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ঝড়ের তাণ্ডবে উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ও মোকছেদ গাজী জানান, মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে এবং জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরী) মো. মনির হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং ৩৬টি খুঁটি হেলে গেছে। এছাড়া ১৯২টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে, ২৭টি ক্রসআর্ম ভেঙেছে এবং অন্তত ২৩০টি গ্রাহক মিটার নষ্ট হয়েছে। জেলাজুড়ে প্রায় ২৭৫টি স্পটে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে এখনও ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সকাল থেকে নতুন টিম গঠন করে মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে শনিবার (৩০ মে) ‘শ্যামনগরবাসী’র ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে শ্যামনগর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২-১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই চরম দুর্ভোগের সময়েও পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় ডিজিএম বা এজিএম-দের সরকারি নম্বরে ফোন করা হলে তারা ফোন ধরছেন না।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে ঝড় শুরু হলে বাড়ির পাশে খেলার সময় একটি বড় তালগাছ ভেঙে পড়ে ৯ বছরের শিশু শারমিনের ওপর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ জিয়াউর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শারমিন ওই গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন