কালবৈশাখি ঝড়ে সাতক্ষীরায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখির তাণ্ডবে গাছ থেকে ঝরে পড়ে বিপুল পরিমাণ আম। এতে জেলার আমচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আবহাওয়া ও মাটির গুনগুনের কারণে সাতক্ষীরা জেলার প্রায় সব জাতের আম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অগ্রিম পাকে। ফলে সাতক্ষীরার হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম দেশের অন্যতম আগাম ও জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত। চলতি মৌসুমের জেলায় কয়েক শ’ কোটি টাকার আম বেচাকেনার আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে আম চাষীদের সেই আশা নিরাশায় পরিণত হতে চলেছে। লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন সাতক্ষীরা জেলার আম চাষিরা।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৭ মে থেকে সুস্বাদু ল্যাংড়া আম পাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৮ মে ঈদুল আজহা হওয়ায় অনেক চাষি গাছ থেকে আম পাড়তে পারেননি। ঈদের এক-দুই দিন পর থেকে ল্যাংড়া আম সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এছাড়াও অনেক বাগানে এখনো হিমসাগর আম পাড়া শেষ হয়নি। এর আগে ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও মুম্বাই এবং ১৫ মে থেকে হিমসাগর জাত পর আম বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আম সংগ্রহের ভরা মৌসুমের মধ্যেই হঠাৎ করে কালবৈশাখির আঘাতে গাছ থেকে আম ঝরে পড়ে চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আমচাষি মোখলেসুর রহমান জানান, তার ৩০টির মত আমবাগান রয়েছে। এসব বাগানের হিমসাগর আম এখনো পুরোপুরি পাড়া শেষ হয়নি। এছাড়া ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম পাড়ার কথা থাকলেও ঈদের কারণে তিনি তা করতে পারেননি। এরই মধ্যে শুক্রবার বিকালের ঝড়ে তার বাগানের হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। এতে তিনি আর্থিকভাবে বড়োধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের আমের আড়তদার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তুহিন জানান, সাতক্ষীরার বড়বাজারে ইতোমধ্যে আমের বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। বাইরের ব্যবসায়ীরাও এসেছে আম কেনার জন্য। কোরবানির ঈদের কারণে দুইদিন আম বেচাকেনা বন্ধ ছিল। কিন্তু এর মধ্যে শুক্রবার বিকালে হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড়ে গাছ থেকে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ঝরে পড়ে চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে আমের বাজারে। এতে করে অনেক আম চাষির লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আম বাগান রয়েছে। চলতি বছর এখান থেকে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকালে হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড়ে জেলা সদরের বিভিন্ন আমবাগান থেকে বেশ কিছু আম ঝরে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে কী পরিমাণ আমের ক্ষতি হয়েছে এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
খুলনা গেজেট/এএজে

