মঙ্গলবার । ১৯শে মে, ২০২৬ । ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে চলছে কাঁকড়া শিকার

শরণখোলা প্রতিনিধি

সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় বনবিভাগের অসাধু লোকজনের সহায়তায় চলছে কাঁকড়া শিকার। সম্প্রতি অবৈধভাবে কাঁকড়া শিকারের সময় দুটি কাঁকড়া ধরা নৌকা ও সরঞ্জামসহ দুই জেলেকে আটক করে বন বিভাগ। তবে আটককৃত কাঁকড়া বোঝাই একটি ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার পূর্ব সুন্দরবনের শেলা টহল ফাঁড়ি এলাকায় শেলার খালে এ অভিযান চালায় বন বিভাগের একটি দল।

যদিও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পরদিন রবিবার আটককৃত দুই জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে অসাধু কাঁকড়া শিকারীরা পূর্ব সুন্দরবনের শেলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন নিষিদ্ধ খালে প্রবেশ করে। তারা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ‘চার’ পেতে নির্বিচারে কাঁকড়া নিধন করে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় শেলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে বন কর্মীরা শেলার খালে অভিযান চালায়। টের পেয়ে অবৈধ শিকারিরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে বন কর্মীরা সোহান শেখ ও ডালিম শেখ নামের দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কাঁকড়া শিকারের কাজে ব্যবহৃত ২টি নৌকা, সাড়ে ৩ শতাধিক নিষিদ্ধ চার এবং কাঁকড়া বোঝাই একটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয় বলে স্থানীয় জেলেরা এ তথ্য জানায়। আটককৃতদের বাড়ি রামপালের পেড়িখালী এলাকায়।

অবৈধ চার দিয়ে কাঁকড়া ধরার অভিযান সফল হলেও পরবর্তীতে পর্দার আড়ালে ভিন্ন নাটকীয়তার জন্ম হয় বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জব্দকৃত কাঁকড়া বোঝাই মূল ট্রলারটি রামপাল উপজেলার পেড়িখালী এলাকার চিহ্নিত ও প্রভাবশালী কাঁকড়া ব্যবসায়ী শাহাদৎ মোড়লের বলে শনাক্ত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রলারটি ফাঁড়িতে আনার পর থেকেই নেপথ্যে জোর তদবির শুরু হয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় (দফারফা করে) শাহাদৎ মোড়লের কাঁকড়া বোঝাই ট্রলার এবং এর সাথে থাকা বেশ কয়েকজন মূল অপরাধীকে ছেড়ে দেয় ফাঁড়ির অসাধু কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের পিঠ বাঁচাতে শুধু সাধারণ দুই দিনমজুর জেলে সোহান ও ডালিমকে আটক দেখিয়ে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়।

মূল অপরাধী ও কাঁকড়াসহ ট্রলার ছেড়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি জানাজানি হলে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, যারা বনের সম্পদ ধ্বংসের মূল হোতা, তারা অর্থের জোরে সব সময় পার পেয়ে যায়। আর অর্থের অভাবে ফেঁসে যায় সাধারণ গরিব জেলেরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

নিষিদ্ধ এলাকায় কাঁকড়া শিকারের দায়ে দুই জেলেকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করলেও, আর্থিক লেনদেন কিংবা কাঁকড়া বোঝাই মূল ট্রলার ও প্রধান অভিযুক্ত শাহাদৎ মোড়লকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেলা টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তাদের দাবি, জব্দকৃত আলামত ও আটক আসামিদের বিরুদ্ধে বন আইনে যথাযথ মামলা দায়ের করেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে জব্দ তালিকায় ট্রলারের উল্লেখ না থাকার বিষয় তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন