মঙ্গলবার । ৯ই জুন, ২০২৬ । ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত সাতক্ষীরার শুভ দাসের বাড়িতে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত আরেক বাংলাদেশি যুবক শুভ কুমার দাস (২২) এর বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আশেপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। একই ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৬) নিহত হয়। এনিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার ৩ জন নিহত হলো। নিহত শুভ কুমার দাস কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাস ও শিখা রানী দাস দম্পতির ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে ও পরিবারের স্বপ্ন ফেরাতে তিন বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমান শুভ দাস। সেখানে তিনি একটি পশু খামারে কর্মরত ছিলেন। অন্য বাংলাদেশিদের সাথে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের মাইফাদুন এলাকায় একটি চারতলা ভবনে থাকতেন শুভ। গত ১১ মে রাতে তাদের আবাসস্থলে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হলে তিনিসহ আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হন। শুভ ছাড়া নিহত সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এর মৃত্যুর খবর আগেই পাওয়া যায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, হামলায় শুভ যে ভবনে থাকতো সেটি সম্পূর্ণ ধসে যায়। পরে সেখানে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে শুভর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়।

নিহতের মা শিখা রানী দাস জানান, আগামী ২২ মে শুভর লেবাননে যাওয়ার ৩ বছর পূর্ণ হবে। ঘটনার আগের দিন ১০ মে সকালে ছেলে শুভর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। সে সময় লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে শুভ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘মা, অনেক দূরে দূরে বোমা পড়ছে, আমাদের এখানে পড়ছে না। আমরা সবাই ভালো আছি। আমাকে নিয়ে তুমি কোন চিন্তা করো না।’ কিন্তু কে জানতো এটাই আমারে বাবার সাথে আমার শেষ কথা।

তিনি আরও জানান, ‘পরদিন সকালে শান্ত নামে এক ব্যক্তি ফোন করে তাদের জানান যে, লেবাননে শুভ যে চারতলা ভবনে থাকতেন সেখানে বোমা হামলা হয়েছে এবং পুরো ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। খবরটি বিশ্বাস না করে তার মোবাইলে বার বার ফোন দিচ্ছি কিন্তু যাচ্ছে না। আমার একটাই চাওয়া আমার ছেলে দেশে ফিরে আসুক। আমি শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে চাই। আপনারা আমার ছেলেকে এনে দিন।’

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মা শিখা রানী দাস বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দ্রুত শুভর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিহত শুভর বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছি। সরকারিভাবে এখনো বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। এরপরও সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে আনার জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন