শুক্রবার । ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ । ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩

ঝুঁকি কমাতে বাজারে কাঁচা টক আম তুলছে সাতক্ষীরার চাষীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

কাঁচায় দাম বেশি পাকলে অপেক্ষাকৃত কম। তাই বেশি দাম পাওয়ার আশায় সাতক্ষীরার বাজারে ইতোমধ্যে বিক্রি হচ্ছে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন কাঁচা আম। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত মণ কাঁচা আম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব আম পাকলে দাম পাওয়া যায় না। তবে টক জাতীয় কাঁচা আমের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

কাঁচা আম দিয়ে মূলত দেশের বিভিন্ন কোম্পানি আচার, জেলি ও জুস তৈরি করে বাজারজাত করে থাকে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে টক জাতের আম কম আসছে। কারণ হিসেবে চাষিরা বলছেন, এ বছর গাছে প্রচুর পরিমাণ মুকুল হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিমাণ আম ধরেনি। আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকা স্বত্বেও এ বছর আম কম হয়েছে।
এদিকে তীব্র দাবদাহে গোটা সাতক্ষীরা জেলার মানুষ যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ঝড়-বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমে আম ঝরে পড়ার পরিমাণ বাড়ছে। আম চাষিরা বলছেন, “কালবৈশাখীসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের শঙ্কা বেশী। তারা যেন লোকসানের মুখে না পড়ে তাই তড়িঘড়ি করে কাঁচা আম বিক্রি করে কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছে।”

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনছেন। যে আমগুলি কাঁচায় টক, পাকলেও টক, সে আমগুলি বর্তমানে বাজারজাত করছেন আম চাষিরা। অসময়ে বাজারে উঠায় দামও পাচ্ছেন বেশি। বাজারের আড়তগুলোতে কাঁচা টক আম মণপ্রতি এক হাজার থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আম চাষি মোকলেছুর রহমান জানান, “আম পাড়ার মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। তবে যে আম কাঁচায় টক এবং পাকলেও টক, সেই আমগুলি আমরা পাড়তে শুরু করেছি। সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা আমের বেশ চাহিদা রয়েছে। যে কারণে টক আম পেড়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। এই আম বিক্রি করে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি।”

আগাম আম ভাঙা ও বাজারজাত করা বিষয়ে সাতক্ষীরার আম চাষি আব্দুল হাকিম গাজী, লিয়াকত হোসেন জানান, “এমনিতে বৈশাখ মাসে প্রচণ্ড গরমের সাথে ঝড়-বৃষ্টি সম্ভাবনা থাকে বেশি। যেকারণে কাঁচা জাতের আমগুলো আমরা এখনি পেড়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করছি। এখন দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।”

সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁ জানান, “এখন বাজারে আসছে কাঁচা টক আম। এই আম পাকা খাওয়া যায় না, টক লাগে। বর্তমানে কাঁচা আম ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।”

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, “চলতি বছর সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় সাড়ে ৫ হাজারটি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষি রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আম চাষিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, “এবারও সাতক্ষীরার আম দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। মাটি, বাতাস ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোপালখাসসহ অন্যান্য জাতের প্রচুর আম উৎপাদন হয়। এবার বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এ কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের শপগুলোতে যাবে সাতক্ষীরার আম।”

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে। বিশেষ করে, ওজন কমাতে, বমি ভাব দূর করতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, চুল ও ত্বক উজ্জ্বল করতে। এছাড়া ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও একাধিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এজন্য মৌসুমের শুরতেই কাঁচা টক আমের বেশ চাহিদা থাকে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন