মঙ্গলবার । ২৬শে মে, ২০২৬ । ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পল্লীতে অর্নাস পড়ুয়া কলেজ ছাত্রী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ২সপ্তাহ ধরে অনশনে রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে কোথাও যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

অনশনরত কলেজ ছাত্রী যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার হাটগাছা গ্রামের সমীর কান্তি বৈরাগীর মেয়ে। বিয়ের দাবি পূরণের জন্য সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গজুয়াকাটি গ্রামের সুবোল সরকারের ছেলে সমিরণ সরকারের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি ।

অনশনরত ওই কলেজ ছাত্রী জানান, প্রায় তিন বছর আগে খুলনা বিএল কলেজে পড়াশুনাকালীন অভিযুক্ত সমীরনের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই থেকে আমাদের পরিচয়। এমনকি আমাকে বিয়ের আশ্বাসে দিয়ে সমিরন একাধিক বার আমার বাড়িতে গিয়েছেন। কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কও করেছেন। এখন আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখছে না। বাধ্য হয়ে আমি তার ঠিকানা খুঁজে চলে এসেছি।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,অভিযুক্ত সমিরন আমার সাথে প্রতারনা করছে। তার গ্রামের বাড়ির সঠিক ঠিকানা আমাকে কোন দিন দেয়নি। আমার মান সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে।

প্রেমের সম্পর্ক কি কি প্রমাণ আছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই কলেজ ছাত্রী মোবাইল ফোনে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তাদের কথোপকথনের তথ্য ছাড়া আর কিছু দেখাইতে পারেনি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সমিরন সরকারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে কথা বলার চেষ্টা করলে তা বন্ধ থাকায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সমিরনের মা জানায়, আমার ছেলে বাড়িতে নেই। সে এখন কোথায় আছে জানিনা। বর্তমানে তার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তবে কয়েকদিন আগে ছেলের কাছে সব কিছু শুনেছি। সে বলেছে তার সাথে আমার শুধু মাত্র বন্ধুত্বের সম্পূর্ক ছিল। আমি কখনও তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়নি। সে মিথ্যে বলছে।

সমিরনের মা আরও বলেন,আমার স্বামী মানষিক ভারসাম্যহীন। আমার ছেলেটাও পাশে নেই। আমার বাড়িতে অচেনা একটা মেয়ে। কখন কি হয় না হয় সেই ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।

প্রতিবেশী বিজন সরকার জানান,সমীরন সরকার আমাদেরকে জানিয়েছেন মেয়েটির সাথে আমি দেখা করব না। সে কেস করে করুক। দেখা হলে আদালতে হবে।

এবিষয়ে খাজরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাসমত ঢালী জানান, ঘটনা শোনা মাত্রই আমি সমিরনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ওই ছাত্রীর কাছে বিস্তারিত শুনে তার অভিভাবকের সাথে কথা বলতে চাইলে সে রাজি হয় নি। তারপর আমি আর কিছু জানি না।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্রী অনশনের ঘটনায় আমার জানা নেই। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আরও জানান।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন