বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২

সেচপাম্প অকেজো ৮ বছর ধরে

এসকে সুজয়, নড়াইল

নড়াইল সদর উপজেলার কমলাপুর ও গন্ধব্যখালী এলাকায় কৃষকদের জন্য স্থাপিত কোটি টাকার দুটি সেচপাম্প প্রায় আট বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জেলার প্রায় ১ হাজার ৩৭ হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৫ সালে প্রায় ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই দুটি সেচপাম্প স্থাপন করা হয়। কমলাপুরে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এবং গন্ধব্যখালীতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের মাধ্যমে চিত্রা নদী থেকে সরাসরি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল।

তবে ২০১৮ সাল থেকে পাম্প দুটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ২০১৯ সালে মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সরেজমিন দেখা যায়, সেচপাম্প কেন্দ্রগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রকল্প কার্যালয়ের ফটক ভাঙা, অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে এবং চারপাশে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত স্থানে মাঝে মাঝে অসামাজিক কার্যকলাপও ঘটে।

সেখানে দায়িত্বরত গেট অপারেটর ইয়ামিন তরফদার জানান, দীর্ঘদিন পাম্প বন্ধ থাকায় কোনো কর্মকর্তা সেখানে নিয়মিত আসেন না। তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে এই সেচপাম্পের মাধ্যমে কম খরচে জমিতে পানি দেওয়া যেত এবং বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব ছিল। কিন্তু পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

কমলাপুরের কৃষক অপূর্ব সিকদার বলেন, আগে স্বল্প খরচে সেচ পাওয়া গেলেও এখন এক কানি জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা কৃষি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাকশি গ্রামের কৃষক আলম সরদার জানান, পাম্প চালু থাকলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষক উপকৃত হতেন। বর্তমানে খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক চাপে রয়েছেন।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, “পাম্প দুটি বিকল হওয়ার পর মেরামতের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তবে বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুনরায় চালুর জন্য আবারও মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয় কৃষকদের একমাত্র দাবি, দ্রুত সেচপাম্প দুটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হোক। এতে কম খরচে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন