সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ

দাকোপে যেন সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক পড়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসতবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। অতীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট থেকে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া জায়গা আবার দখল শুরু করেছে অবৈধ দখলদাররা। অভিযোগ উঠেছে অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় দখলদাররা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার নিয়ে গঠিত তিনটি পৃথক দ্বীপের উপর দাঁড়িয়ে এই দাকোপ উপজেলা। চারিপাশে নদী বেষ্টিত উপজেলাটি পাউবোর নির্মিত বেড়ীবাঁধ দিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। আর এই সকল বাঁধকে ঘিরে উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, বটবুনিয়া, কালীনগর, মোজামনগর, নলিয়ান, জয়নগর, বানীশান্তা, বুড়িরডাবুর, হোগলা বুনিয়া, পোদ্দারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় বাজার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পেরিফেরী ভুক্ত জায়গাসহ অধিকাংশ বাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাজারের বাইরে সমগ্র উপজেলায় যত্রতত্র বেড়ীবাঁধের দু’পাশ দখল করে বসত ভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময় পাউবোর ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন সেখানে থাকা দখলদারদের পুনর্বাসনে মোটা অঙ্কের অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষে রাস্তা হস্তান্তরের সাথে সাথে একই প্রক্রিয়ায় বেড়ীবাঁধের দু’পাশ ফের দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। অধিকাংশ বাজারে নির্মিত স্থাপনার বারান্দা তৈরিতে দখল নেওয়া হয়েছে ফুট পথ। ফলে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটিও সংকুচিত হয়ে হাঁটা চলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে আবার সরকারি জায়গার পজেশন দখল করে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিচালিত অভিযানে কিছু জায়গা দখলমুক্ত হয়। কিন্তু আবার শুরু হয়েছে অবৈধ দখলদারদের তৎপরতা। সম্প্রতি বাজুয়া ও লাউডোপ ইউনিয়নে দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্মাণ কাজ অব্যাহত আছে।

জানা গেছে, বাজুয়া খুটাখালী লাউডোপ এলাকায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সরকারি জায়গা পজিশন হিসাবে বিক্রি করা হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় চলে এই দখল বাণিজ্য। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দখল প্রক্রিয়া চললেও অজ্ঞাত কারণে তারা নির্বিকার।

ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জানায়, কয়েক বছর আগে ভবিষ্যতে সরকারি জায়গা দখল করবে না মর্মে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার নামা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ফের সেই জায়গা দখল করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার হয় না। তারা কেবল লোক দেখানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। অথচ সুযোগ ছিল ওই সকল বাজারের পেরিফেরীর জায়গা এবং সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সম্পত্তি একসনা বন্দোবস্ত বা লীজ প্রক্রিয়ার আওতায় এনে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়ের।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন