নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে খুলনা টিটিসি

একরামুল হোসেন লিপু

তেলিগাতি কুয়েট রোডে অবস্থিত খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)’তে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নারী অপ্রচলিত পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। এটাকে আরো বেগবান করতে আইএলও সমর্থিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরো নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র অফিসিয়াল স্টোরিটেলিং প্ল্যাটর্ফম ‘ILO voices’ এ প্রকাশিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

‘দক্ষতাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা হোক সবার জন্য’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

১৯৯৯ সালে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে কর্ম জীবন শুরু করার পর এই খাতের সম্ভাবনা তাকে অনুপ্রাণিত। কেননা এ খাতে রয়েছে দক্ষ প্রকৌশলী, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো। এছাড়া রয়েছে সরকারের সহায়তা, বিভিন্ন প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সমর্থন।

২০২৪ সালে খুলনা টিটিসি’র অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই জেন্ডার সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হন। অধ্যক্ষ হিসেবে এসব বিষয় কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে উপলব্ধি করেন। কিন্তু শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানের সমানুপাতিকভাবে নারী-পুরুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। শুরুতে অভিভাবকদের সঙ্গে জেন্ডার নিয়ে আলোচনা হতো, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিতেন। তবুও তিনি বিশ্বাস করতেন আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারবেন এবং নারীদের প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত দক্ষতা উন্নয়ন খাতে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারবেন। এসব পেশার শ্রমবাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং নারীদের সফল হওয়ার জন্যও এগুলো বড় সুযোগ তৈরি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইএলও’র সঙ্গে তার প্রথম কাজের সুযোগ তৈরি হয় proGRESS প্রকল্পের মাধ্যমে। সেখান থেকেই তিনি জেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আরো সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরে Skills ২১প্রকল্পের মাধ্যমে Talent partnership উদ্যোগের সঙ্গেও সংযোগ তৈরি হয়। proGRESS ITalent partnership প্রকল্প কার্যক্রমের নতুন গতি এনেছে এবং নতুন নতুন কোর্স চালু করতে সহায়তা করেছে। আগে থেকেই জেন্ডার সমতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। কিন্তু প্রচেষ্টা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত। আইএলও’র বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে তিনি শিখেছেন, কীভাবে আরও সংগঠিতভাবে কাজ করতে হয় এবং এসব সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হয়। এখন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। তারা জানে এই প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার কোন স্থান নেই। প্রশিক্ষণকালীন শিক্ষার্থীরা জেন্ডার বৈষম্যের উদ্যোগে একে অপরকে সম্মান করতে শিখেছে।

উল্লেখ্য, proGRESS (Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Szstems) হলো গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে আইএলও’র একটি প্রকল্প, যা বাংলাদেশের জেন্ডার সমতা, নিরাপদ শিক্ষা ও কর্ম পরিবেশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে।

Skills ২১ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইএলও’র একটি প্রকল্প, যা দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার মান ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে এবং তরুণদের শ্রম বাজারের চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন