দৌলতপুর মুহসিন মোড় পাইকারি কাঁচাবাজার প্রবেশদ্বারের সড়ক মরণ ফাঁদে পরিণত

একরামুল হোসেন লিপু

নগরীর দৌলতপুর মুহসিন মোড়ে অবস্থিত পাইকারি কাঁচাবাজার প্রবেশদ্বারের সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। উঁচু-নিচু, কর্দমাক্ত, পানি ভর্তি সড়ক দিয়ে মালবাহী ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, নসিমনসহ, ভারী যানবাহনের চালক, পথচারীরের যাতায়াতসহ মালপত্র ওঠানামা, আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কাঁচা বাজারের চৌরাস্তা মোড়ের পশ্চিম প্রান্তে এ অঞ্চলের বৃহত্তম দৌলতপুর বাজার, পূর্ব প্রান্তে দৌলতপুর স্টিমার ঘাট এবং প্রবেশদ্বারের সড়কটি পুরাতন যশোর রোড, দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশন বা ডিসি রোড নামে পরিচিত। রেলিগেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার এ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। উঁচু-নিচু ভাঙাচোরা এবং অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়শই গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহন। সড়কটিতে দৌলতপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ অসংখ্য পাট গোডাউন, জুটপ্রেসসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দৌলতপুর বাজারে মালামাল পরিবহনের প্রবেশদ্বারও এটি।

কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন খুলনার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঁচা তরকারি বোঝাই ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, নসিমন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। বার বার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সু-দৃষ্টি দেয় না। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার এটি। আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন পণ্য খালাস এবং নেওয়ার জন্য কাঁচা বাজারে আসে। সড়কটি সংস্কারে কেসিসি প্রশাসক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা, যানবাহনের চালক, বাজারের কুলি, পথচারী সবাই চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছি।

আড়তদার এনামুল হাসান পিয়াস বলেন, আমার পিতা জুলহাজ ৫৫ বছর এই বাজারে ব্যবসা করেছেন। এখন আমি করছি। পিতার মুখে কখনও শুনিনি রাস্তাটি সংস্কারের কথা।

কাঁচাবাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তাটির এই দুরবস্থা চলছে। বিগত সরকারের আমলে অনেকে আশ্বাস দিয়েছিল, বাস্তবায়ন হয়নি। কিছুদিন পূর্বে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাই এসেছিলেন। উনিও আশ্বস্ত করেছিলেন রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হবে। সে আশায় বসে আছি। রাস্তাটির দুরবস্থার কারণে বাজারে লোকজন কম আসছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাচ্ছে। আড়তদার সমিতির পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শেষে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন