পরিচালকের কল্যাণে আলাদিনের চেরাগ হাতে অনেকের!

জাহাঙ্গীর আলম

ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন পরিচালক হিসেবে যোগদান করায় আলাদিনের আর্শ্চয্য প্রদীপ পেয়েছেন অনেকে। ২০০৪ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস) হিসেবে যোগদান করেন সোনিয়া আক্তার নুপুর। পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে হয়েছেন ক্যাশিয়ার। দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে বর্তমানে কর্মরত খুলনা পরিচালকের দপ্তরে। অদৃশ্য শক্তিতে পিরোজপুর জেলার পরগোলা গ্রামের নুপুর পরিচালক যোগদানের মাত্র এক মাসের মধ্যে এক লাফে দখল করেছেন প্রধান সহকারী (বড়ো বাবু)’র চেয়ার!

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র ক্যাশিয়ারকে প্রধান সহকারী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরকম একাধিক ব্যক্তির কপাল খুলেছে। বিনিময়ে গুনতে হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। আবার কেউ টাকা ছাড়াও অলৌকিক ক্ষমতা বলে বসেছেন বড়ো চেয়ারে। পরিচালক দপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিচালকের দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমান পরিচালকের যোগদানের ২/৩ দিন আগে ঢাকায় যান সোনিয়া আক্তার নুপুর। ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন যোগদানের পরের দিনই প্রধান সহকারী মাসুম বিল্লাহকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। তার স্থলে পরিচালকের সহযোগী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের শামীম আহসানকে প্রধান সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠজন জানান, সোনিয়া আক্তার নুপুর ক্যাশিয়ার থেকে প্রধান সহকারী হওয়ার আব্দার শুরু করেন পরিচালক যোগদানের শুরু থেকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে পরিচালকের কাছে তদবির করা হয়। কিন্তু তাতেও মন গলে না পরিচালকের। অফিসে এ নিয়ে একাধিক সময়ে কান্নাকাটি ও চিল্লাপাল্লাও করতে শোনা যায় বলে ওই ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়। অবশেষে এক অদৃশ্য যাদুর বলে পরিচালকের অন্যতম সহযোগী শামীম আহসানকে আবারও বদলি করে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে প্রধান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয় আর সোনিয়া আক্তার নুপুরকে ক্যাশিয়ার থেকে বসানো হয় পরিচালকের দপ্তরে প্রধান সহকারী (বড়ো বাবু)’র চেয়ারে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বড়ো বাবুর চেয়ারে বসে নুপুর সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার ক্যাশিয়ার তরিকুল ইসলামকে প্রধান সহকারী হিসেবে নিয়মিত করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী লেনদেনও হয়। কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ১১৬১(১০) নম্বর স্মারকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত জি, এম জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান সহকারী (চঃদাঃ) করে একটি আদেশ জারি করা হয়। ২৩ জুলাই দেওয়া ওই একই আদেশে পরিচালকের দপ্তর থেকে ২০ মে প্রথম আদেশে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা ক্যাশিয়ার মাসুম বিল্লাহকে শ্যামনগরে খালি হওয়া ক্যাশিয়ার পদে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। শুধু নুপুর বা জাহাঙ্গীর নয় এরকম অনেকের কপাল খুলেছে এ পরিচালকের কলমের খোচাঁয়। বিনিময়ে অনেকের কপালও পুড়েছে।

পরিচালকের দপ্তরের অন্য একটি সূত্র জানায়, মাত্র ৬ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ায় কপাল পুড়েছে এক কর্মকর্তার। যাকে এ পরিচালক যোগদানের মাত্র একদিনের মধ্যে খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে তার দপ্তরে নিয়ে আসেন। ওই কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিচালকের দপ্তরের এক চতুর্থ শ্রেণির মহিলা কর্মচারীর কাছ থেকে সামান্য টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বলে সূত্রটি দাবি করে। এক বন্ধুর সুপারিশে সাতক্ষীরার দু’কর্মকর্তাকে বদলি থেকে বিরত ছিলেন পরিচালক। বিষয়টি তার অপকর্মের হোতা মুকুল ও রাসেলকে জানিয়েও রেখেছিলেন। কিন্তু অনেক আদেশের মধ্যে কথিত ভাগ্নে মুকুল ওই দুই কর্মচারীকে বদলির আদেশ তৈরি করে মামার কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। বিনিময়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন ভাগ্নে মুকুল বলে সূত্রটি দাবি করেন। পরে বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে মুকুলকে প্রচণ্ড বকাবকি করেন এবং এক সপ্তাহ অফিসে আসা বন্ধ করেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। পরে মাপ চেয়ে এবং ঘুষ নেওয়া ওই ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে পুনরায় অফিসে বহাল তবিয়তে তদবির বাণিজ্যের সাথে সক্রিয় হয়েছে ভাগ্নে মুকুল।

এসব ব্যাপারে কথিত ভাগ্নে রবিউল ইসলাম মুকুলের ০১৭১২-০৮৭৩৯৮ নম্বরে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ওই নম্বরের হোয়াটস এ্যাপ-এ কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন