বাগেরহাটের রামপালে আহাদ আহমেদ ইতু (২৫) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত প্রধান আসামি চরমপন্থী মাসুম বিল্লাহসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চরমপন্থী সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ (৫০), তার ভাই মো. বাকি বিল্লাহ (৪৫) এবং স্ত্রী মনিরা বেগম (৫৫)।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজীব আল রশিদ জানান, সোমবার সকালে জমির পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় আহাদ নিহত হন এবং তার বাবা ফরিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই মিতু তিনজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের আগেই অভিযানে নেমে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ মনিরা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে একই রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও এসআরবি-৬-এর সহায়তায় খুলনার ফুলতলা এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহ ও তার ভাই বাকি বিল্লাহকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের রামপাল থানায় আনা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রামপালের ইসলামাবাদ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সীমানা জমির পানি সরানো নিয়ে আহাদের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ চলছিল। সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে পানি নিষ্কাশন কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুম বিল্লাহ ও বাকি বিল্লাহ লোহার রড দিয়ে আহাদের বুকে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় বাঁচাতে এলে আহাদের বাবা ফরিদুজ্জামানকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আহাদের মৃত্যু হয় এবং তার বাবাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার মাসুম বিল্লাহ পূর্বে সর্বহারা পার্টির সদস্য ছিলেন এবং বাইনতলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমান ও প্রবীণ রাজনীতিক মাওলানা গাজী আবু বকার সিদ্দিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে তিনি পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

