ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের

শিপইয়ার্ড সড়কে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার জন্য দায়ী কেডিএর ১৪ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার জন্য খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কেডিএর অধীনে থাকা ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এবং কেডিএতে প্রেষণে আসা তিন উপ-সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হলেন কেডিএ’র সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

কেডিএর কর্মকর্তারা হলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাব রক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাব রক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাব রক্ষণ অফিসার সাইদুল হক ও অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলী।

কেডিএ থেকে জানা গেছে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৩ সালের ৭ মে। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। উল্টো ব্যয় বেড়ে দাড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। গত ৯ জুন একনেকে প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গাফিলতি ও বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। ওই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।

প্রতিবেদনে ওই ১৪ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও আর্থিক অনিয়ম, সমীক্ষা ব্যতিরেকে ডিপিপি প্রণয়ন এবং প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দীর্ঘ দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে আর্থিক শৃংখলা পরিপন্থী কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন