গত এক যুগ ধরে দিঘলিয়ার আতাই নদীর করাল গ্রাসে সড়কের দুই তৃতীয়াংশ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিদ হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া আতাই নদীর উপজেলার কামারগাতি থেকে পথের বাজার সড়কে এক সময় ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। এখন আর সে সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধ করেছে। তবে ঝুঁকি কাটেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শ’ শ’ ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। স্থানীয়দের দাবি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন রক্ষায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি ৩/৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের এ স্থানটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন মূলত এটি বাঁধ নয়, একসময় মূল সড়ক ছিল। ২০১৩ সাল থেকে ভাঙতে ভাঙতে এটি এখন বেড়িবাঁধে রূপান্তরিত হয়েছে। এ বছর ভাঙনের মূল পয়েন্ট এটি। আগে কখনও এ পয়েন্ট সংস্কার হয়নি। তবে পার্শ্ববর্তী পয়েন্টগুলোতে প্রতিবছর জিও ব্যাগ দিয়ে নামমাত্র সংস্কার কাজ করা হয়। এজন্য সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এলাকাবাসীর কোন উপকারে না আসলেও পকেট ভারি হয় অনেকের।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, আপাত গ্রামবাসী মিলে বাঁশ আর মাটি দিয়ে কোনো মতে ঠেকিয়ে রেখেছি। তবে যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পুরো দিঘলিয়া তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক এ দাবি গ্রামবাসীর।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইতোমধ্যে বাঁধটি সংস্কারের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পানিতে চলে গেছে। পাশে যে ঘেরগুলো আছে পানি থাকায় যতই বাঁধ দেয়া হোক টিকবে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের মতামত। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য স্যারের দৃষ্টিতে আসার পর স্যার আমার সঙ্গে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয়ের এ অংশের যিনি দেখাশোনা করেন উপ-সচিব, উনার সঙ্গে কথা বলেছি, সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা সবাই কথা দিয়েছেন এবার স্থায়ী সমাধান করবেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

