খুলনা বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে শনিবার। এবার হরেক জাতের ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারায় সেজেছে গোটা মেলাপ্রাঙ্গণ। আর মেলা শুরুর একদিন পরই বেড়েছে বৃক্ষপ্রেমীদের ভিড়।
গতকাল রবিবার বিকেলে সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি হরেক জাতের ফলদ, বনজ ও ওষুধি চারার এক অভূতপূর্ব সমারোহ ঘটেছে। বিভিন্ন নার্সারির স্টলগুলো বাহারি রঙ আর সুবাসে সেজে উঠেছে। ফলদ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুর পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন ফল, করমচা, শরিফা ও থাই বারোমাসি আমের রকমারি কালেকশন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি বনায়নের জন্য মেহগনি, রেইনট্রি, সেগুন ও অর্জুনের মতো ঐতিহ্যবাহী বনজ চারাও আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াতে ইনডোর প্ল্যান্ট, বাহারি অর্কিড ও ক্যাকটাসের স্টলগুলোতে নারী ও তরুণ-তরুণীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে মেলা শুরুর প্রথম দিনে তেমন বেঁচাকেনা হয়নি। তবে রবিবার কিছুটা শুস্ক আবহাওয়া থাকায় মানুষ মেলায় ভিড় জমাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেলে ভিড় বেশি হয়েছে। তবে ক্রেতারে চেয়ে দর্শনার্থী বেশি আসছে। দাম শুনছে, ছবি তুলছে। প্রথম দিনের চেয়ে মেলার দ্বিতীয় দিন বেচাকেনা বেড়েছে। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ এখানে আনা হয়েছে। আরও গাছ আনা হবে।
বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা মোঃ জাকির হোসেন জানান, প্রথমদিনে সাধারণত কম বিক্রি হয়। তবে এবার প্রথমদিনেই ফলজ, বনজ, ওষুধি, শোভা, ফুলসহ অন্যান্য ৩৭০টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ৫০ হাজার ৮১০ টাকা।
পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা সুজনা জলি বলেন, আমি বৃক্ষপ্রেমী মানুষ। গাছই আমার প্রাণ। আমি গাছ অনেক ভালোবাসি। আমার বাসাটাই যেন একটা জঙ্গল। গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে সকাল থেকেই মেলায় আসার পরিকল্পনা ছিল। এখন মেয়েদের নিয়ে মেলা দেখতে এসেছি। অনেক ফুল ও ফলের গাছ দেখলাম। আমি মেলা চলাকালীন সময়ে আরও অনেকবার আসব এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ কিনব। আমি সাধারণত ডোরপট প্ল্যান্ট বেশি পছন্দ করি, সেগুলোই দেখছিলাম। পাশাপাশি ইনডোর প্ল্যান্টও দেখলাম।
গোলাপ কানন নার্সারির মেলায় স্টলের কুতুবউদ্দিন বলেন, গতকাল থেকে মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে আমি একটি বড় ও চারটি ছোট গাছ বিক্রি করেছি। আশা করি, ধীরে ধীরে বিক্রি আরও বাড়বে। আমার স্টলে থাই সবেদা, বকুল, সবেদা-গাব, কদবেল, চালতা, ডালিম, বেদানা, বেলি, প্রিমোলিয়া, চুইসহ আরও হরেক রকমের গাছ রয়েছে।
খুলনা নার্সারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মাসুদ বলেন, বর্তমানে অতি বৃষ্টি ও অতি খরার মতো জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষমেলা শুধু গাছ কেনার জন্য নয়। এ বছর মেলায় মোট ৬২টি স্টলের মধ্যে ৫৭টি স্টলে সব ধরনের গাছ রয়েছে। এখানে বারান্দা ও ছাদবাগানের উপযোগী গাছ, কাঠের গাছ, ফলজ গাছ, ফুলের গাছসহ নানা ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃক্ষমেলা হচ্ছে খুলনার এই মেলাটি। মাসব্যাপী এ ধরনের বৃক্ষমেলা দেশের আর কোথাও হয় না।
খুলনা নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম রয়েল বলেন, এবারের মেলায় ফলজ, বনজ, ওষুধিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। আমরা ভালো মানের চারা সরবরাহের চেষ্টা করছি। এ বছর প্রায় ২০ লাখের বেশি চারা নিয়ে মেলা শুরু করেছি। এখনও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ চারা আসা বাকি রয়েছে। মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও চারা আসতে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত।
খুলনা গেজেট/এনএম

