শনিবার । ২০শে জুন, ২০২৬ । ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩

নগরীর আদালত পাড়ায় দু’খুনের তদন্তে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার আদালত পাড়ার দু’খুনের তদন্তে ভাটা পড়েছে। এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামি এজাজের জবানবন্দিতে উল্লেখযোগ্য তথ্য পেলেও বাকি আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ৬ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক ও অর্থ দাতাকে শনাক্ত করতে পারেনি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিকেলে খুলনা কারাগারে বন্দি থাকা শীর্ষ দু’সন্ত্রাসীর সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ৪০ মিনিটের ওই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় কারারক্ষীরা। ওই দিন একটি বিশেষ বাহিনী প্রধানের ভাই আহত হয়। এ ঘটনায় তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন তিনি। প্রতিশোধের নেশায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। পরিকল্পনা করতে থাকেন প্রতিশোধের। এর মধ্যে আদালত থেকে জামিন পান খুলনার অপর শীর্ষ এক বাহিনী প্রধানের দু’অনুসারি। ওই দু’জনের ওপর নজরদারি রাখতে থাকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা। সঠিক খবর পেয়েও যান তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগে থাকে তারা।

সূত্রটি আরও জানায়, ৩০ নভেম্বর সকালে জেলখানা নদী পর হয়ে সন্ত্রাসীরা আদালত চত্বরের আশপাশে অবস্থান নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার পর ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। হত্যা মিশনে অংশ নেয় বিশেষ বাহিনীর ১০ জন সদস্য। তিন মিনিটে মিশন বাস্তবায়ন করে তারা পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালত চত্বরের মধ্যে থাকা ভাসমান এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড জীবনে কোনো দিন আর দেখেননি। আদালত পাড়ার শ’ শ’ মানুষের সামনে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তাদের হাতে ভারি অস্ত্র থাকায় পুলিশকেও এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

তবে ৬ মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও অন্যান্যরা গ্রেপ্তার না হওয়াতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অধিকাংশ আসামি র‌্যাব গ্রেপ্তার করায় পুলিশের তেমন কোন ভূমিকা নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘দু’হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারকে একাধিকবার বলা হলেও কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি। তিন দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তারা হলেন, রিপন, এজাজ, চিংড়ি পলাশ, হৃদয়, সাইফি ও আলিফ হোসেন। এদের মধ্যে এজাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। বাকিদের কেউ কোনো তথ্য প্রদান করেননি। আসামিদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই বাছাই করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ইমরান নামে এক সন্ত্রাসী আছে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খুলনায় হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আকারে বেড়েছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললে বিভিন্নস্থানে অনাকাক্সিক্ষত গুলি ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পুলিশের নজরদারির কারণে এসব ঘটনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। নজরদারি বাড়িয়ে এসব সন্ত্রাসীদের পেছনে কারা আছে তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে হত্যাকাণ্ড আরও বেড়ে যাবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন