সাম্প্রতিক সময়ে কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে খুলনার শীর্ষ এক সন্ত্রাসীর একাধিক সক্রিয় সদস্যের। মুক্তি পেয়ে এসব সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন ঘটছে খুনখারাবির মতো বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। এ ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সেনা, নৌবাহিনী, পুলিশ ও ডিবির একাধিক অভিযানে খুলনার কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ তাদের বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়। এমন কী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তাদের মামলা তুলে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে অনেকেই এলাকা ছাড়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে নুর আজিমসহ তার ৫জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নুর আজিম খুলনার শীর্ষ ১০ সন্ত্রাসীর একজন। সে আটক থাকলেও বাইরে বের হয়েছে রিয়াজুলসহ অন্য সদস্যরা। কারাগারে থেকে তার নির্দেশে বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে সদস্যরা। ঘটছে খুলনার বিভিন্নস্থানে খুন খারাবি।
সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি এলাকায় গাড়ি চালক মোঃ আব্দুর রহমান গাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ খুলনার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ শেখসহ ১১ জন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে বাহিনী প্রধান পলাশ শেখ ও কালা লাভলু ছাড়া সকলে জামিনে মুক্ত রয়েছে। তারা দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে শহরে ত্রাস সৃষ্টি করছে।
পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, খুলনার বিশেষ এক বাহিনী প্রধানের অন্যতম সহযোগী কালা তুহিনসহ তিন সদস্যকে রিভলবার, গুলি ও মাদকসহ বটিয়াঘাটার চক্রাখালী এলাকা থেকে গত বছরের ৬ মে রাতে নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে কালা তুহিন ও জিতু নামে দু’জন সন্ত্রাসী কাশেমপুর হাই সিকিউরিটি জেল থেকে মুক্তি পায়। যৌথ বাহিনীকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করার কারণে এ বছরের ৮ মে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কালা তুহিনের সদস্যরা আজিজুলকে বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্জনস্থানে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তাদের হত্যার শিকার হয় কাজী রাশেদ।
গত ২২ ডিসেম্বর মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদার। ২৬ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাসুপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় শুটার শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীমসহ এক সহযোগী। গতে ১৩ মে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বের হয় শামীম। বের হওয়ার কয়েকদিন পর সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বস্তিতে গোলাগুলি করে। সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহের এমপি আনার হত্যা মামলার আসামি ও খুলনার এক সময়ের চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়াকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
এদিকে শেখপাড়া এলাকার একটি সূত্র জানায়, বাবু ওরফে পুরি বাবুর নেতৃত্বে গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে শেখপাড়া নজরুল নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি মার্কেটের হামলা চালায় খুলনা বিশেষ বাহিনীর কয়েকজন সদস্য।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী পুরি বাবুকে কিছু দিন আগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও আদালত পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। তবে এ বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে।
কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসান জানান, শুধুমাত্র গ্রেপ্তার করে আদালতে দেওয়ার কাজ আমাদের। কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। জামিনে বের হলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অপরাধীরা শহরের বাইরে থেকে অপরাধ করে চলে যায়। এক্ষেত্রে তাদেরকে আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। অপরাধ দমনে আমরা সর্বত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
খুলনা গেজেট/এনএম

