রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সৎ ভাই মাহমুদুন চৌধুরী জনিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল শনিবার পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়। এ হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
গত শুক্রবার বিকেলে যৌথ বাহিনী সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রেনেড বাবুর সৎ ভাই মাহমুদুন চৌধুরী জনিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামাল বলেন, এ পর্যন্ত এ হত্যা মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অশোক ঘোষকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। ঘটনার দিন রাতে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার ২২ তলা ভবনের পাশ থেকে আটক করা হয় জাবেদ গাজীকে। এর মধ্যে অশোক ঘোষ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে জনিকে আটক করে যৌথ বাহিনী। তাকে রূপসা উপজেলা শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। তবে আদালত এখনও পর্যন্ত শুনানির দিন ধার্য করেনি। পরবর্তীতে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে তার নাম এসেছে। তাকে অনেকদিন ধরে নজরে রাখা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে এতদিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে বলে ওসি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর তৈরি সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির বিরুদ্ধে নগরীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। খুলনা সদর থানা পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকায় বাবুর নাম রয়েছে এক নম্বরে। ভাইয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মোংলা বন্দর কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) ভবন দখল নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মাহামুদুন চৌধুরী জনির বিরুদ্ধে। সংগঠনটির সদস্য না হয়েও কিছু দিন আগে নিজেকে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন জনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

