রবিবার । ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১৮ই মাঘ, ১৪৩২

বাগযুদ্ধে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ, নিরুত্তাপ ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকী ১০ দিন। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের ব্যস্থতা ততই বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ ভোটারদের শঙ্কা দূর করতে খুলনায় শুরু হয়েছে সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ গ্রহণে যৌথ টহল। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচনি সহিংসতাসহ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এই যৌথ টিম।

এই টিমে রয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী। তবে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারির মাঝেও ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছেনা ভোটারদের। প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মাঝে উৎসহ উদ্দীপনা থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তেমনটা নেই। অনেকটা নিরুত্তাপ খুলনার নির্বাচনি মাঠ। সম্প্রতি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাকযুদ্ধে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ভোটারদের মাঝে অনেকটা সংশয় বিরাজ করছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেড় যুগ পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে একে অপরের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধু বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। সময়ের ব্যবধানে এই দু’দল এখন রাজনীতির দুই মেরুতে। ফলে দুই দলের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। নির্বাচনি সভা-সমাবেশে একে অপরের সাথে বাগযুদ্ধে জাড়াচ্ছেন। তুলে ধরছেন অতীতের আমলনামা। ফলে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ।

গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা সভা ও সনাতনি সমাবেশে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী একাত্তর সালে আমাদের মা-বোনকে ধরে রাজাকার-আলবদরের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা এখন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের কাছে ভোট চাইছে।’

এদিকে জামায়াতও ছাড়ার পাত্র নয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তারাও পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের দলীয় প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার পাল্টা জবাবে বলেন, ‘যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে হুমকি, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি এবং দলীয় স্বার্থের জন্য নির্যাতন চালায় ক্ষমতায় গেলে তাদের হাতে সাধারণ মানুষসহ সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে না।’ গত বৃহস্পতিবার ১১নং ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক এবং সাজিয়াড়া মোড়সহ আশপাশ এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনি মাঠে ভীতি ছড়িয়ে জনগণকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে।’

প্রধান বড় দু’দলের এহেন আক্রমণাত্মক বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরণের আতঙ্ক ও শংকা দেখা দিচ্ছে।

নগরীর লবণচরা থানাধীন রিয়া বাজার এলাকার রহিম শেখ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর নগরীতে কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিরাতে এ এলাকায় অস্ত্রসহ মোটরসাইকেলের মহড়া চলে। দু’দলের রাজনীতির দর্শনে পার্থক্য দেখা দিয়েছে।’

শুধু তিনিই নন, টুটপাড়ার খালেক, গল্লামারির আনোয়ার হোসেন, শেখপাড়ার আবুল বাশার, গোবরচাকার মতলেব, বানরগাতির শাহাজাহানসহ অনেকেই সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি ঝিনাইগাতী উপজেলায় ঘটে যাওয়া জামায়াত নেতার খুনের ঘটনায় ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাগমারা এলাকার দিন মজুর আশরাফ মল্লিক। তিনি জানান, ‘দুই দলের কার্যক্রম ভাল দেখা যাচ্ছেনা। ক্ষমতায় গেলে তাদের অবস্থান কী হবে তা বলা সম্ভব নয়। এ রকমের পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হবেনা।’

হাজী মুহসীন রোডের কাশেম শেখ বলেন, ‘প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখা গেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে একট অজানা আতঙ্ক। নির্বাচন আদৌ হবে কী না তা নিয়েও অনেকে শঙ্কিত।’

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল থেকে খুলনায় যৌথ টহল শুরু হয়।

এব্যাপারে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুরুল হাই মোহাম্মাদ আনাছ বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেজন্য জনগণের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি না চলে এবং কোথাও কোন ধরণের প্রবলেম সৃষ্টি হলে এই টিম সাথে সাথে সেখানে গিয়ে কাজ করবে। কোথাও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য জানতে পারলে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘খুলনার ৬টি আসনে ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। এছাড়া প্রার্থীদের অভিযোগ তদন্তে জুডিসিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন করা হয়েছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন