নগরীর তিনশ’ ফিট রাস্তায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খুলনার ঐতিহ্যবাহী সেমাই পিঠা আর হাঁসের মাংস। দূর-দূরান্তের ভোজন রশিকরা এর স্বাদ নিতে এখানে ভিড় করছে।
এখনো সম্পূর্ণ রূপে চলাচলের যোগ্য হয়নি তিনশ’ ফিট রাস্তা। তার ফাঁক-ফোকড় দিয়ে নগরীর নিরালা এলাকা হয়ে বিনোদন প্রেমী মানুষ এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরতে আসে। রাস্তার পাশে রয়েছে ফুড এন মুড নামে একটি রেস্টুরেন্ট। তার পাশে গড়ে উঠেছে ছেলে-মেয়েদের বিনোদনের জন্য ছোট একটি পার্ক। ওই রেস্টুরেন্টে বিক্রি হচ্ছে সেমাই পিঠা আর হাঁসের মাংস।
ফুড এন মুড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আফসান সুলতানা জানান, ‘নভেম্বর-ডিসেম্বর বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে। তখন থেকে মাথায় চিন্তা আসে বাড়তি আয়ের। ১২ বিঘা জমির পাশে গড়ে তোলা হয় ফুড এন মুড নামে একটি খাবার হোটেল। সপ্তাহে দু’দিন খোলা রাখা হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘এখানে দেশি চুইঝালের সংমিশ্রণে হাঁসের মাংস ও সেমাই পিঠা তৈরি করা হয়। এক প্লেট পিঠা আর হাঁসের মাংস ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সাথে রয়েছে ফাস্টফুড ও গরুর দুধের স্পেশাল চা। বিকেল হলেই হাঁস ও পিঠার স্বাদ নিতে খুলনার বিভিন্নস্থান থেকে এখানে ভিড় করছে অনেকে। শুক্রবারে ভিড় একটু বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্প পরিসরে শুরু করেছি। পরবর্তীতে বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি থাকবে শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন উপকরণ।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্টার গোলজার হুসাইন বলেন, ‘কর্ম প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি যাতায়াত করা হয় এখান থেকে। স্থানীয়দের মুখে এখানকার খাবারের সুনাম শুনে আজ ছেলে মেয়েদের নিয়ে এসেছি। খাবার গ্রহণ করলাম খুব স্বাদ।’
খালিশপুরের বাসিন্দা জামিলা খাতুন জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে খাবারের স্বাদ সম্পর্কে অবগত হয়ে এখানে আসা। সেমাই পিঠা আর হাঁসের মাংস খেতে খুব স্বাদ।’
শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা জামিলুর জানান, ‘নগরের ব্যস্ত জীবনে মানুষ এখন সৌখিন। কেউ এখন আর কষ্ট করতে চায়না। পরিবার থেকে নবান্নের উৎসব হারিয়ে গেছে। সদস্যদের নিয়ে শনিবার বিকেলে খাবারের স্বাদ নিতে এখানে আসা।’
খুলনা গেজেট/এনএম



