শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

নগরীতে যুবলীগ সভাপতির বাড়িতে চাঁদা দাবির অভিযোগ, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার কয়রা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার নেসার উদ্দিন সড়কের বাড়ি থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি শফিকুল ইসলাম খুলনায় ফিরে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

আটক যুবকরা হলেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, আল নাহিয়ান ও মিরাজ গাজী।

শফিকুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ পারভীন অভিযোগ করেন, যুবকরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না হলে বাবাকে পুলিশে ধরিয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ বলেন, “আটক ব্যক্তিরা এনসিপি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কমিটিতে নেই। অভিযোগ সত্যি হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে অর্ধডজন মামলা নিয়ে যুবলীগ সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অবস্থানের পরও পুলিশ কেন তাকে গ্রেপ্তার করেনি-সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা উচিত।”

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে নেসার উদ্দিন সড়কে একটি বাড়িতে চাঁদাবাজির জন্য কয়েকজন দুষ্কৃতি প্রবেশ করছে জানতে পারি। শোনার সাথে সাথে আমরা একটি টিম পাঠায়। এসএম শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করি। পরে জানতে পারি, তারা বাসাভাড়া নেওয়ার কথা বলে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে বাড়ির মালিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। এ সম্পর্কে আমরা তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। আটকের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ খুলনা জেলা শাখা এনসিপির সদস্য পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু তথ্য যাচাই-বাছাই করে জানা গেছে, সে নাগরিক পার্টির কোনো সদস্য নয় এবং তার কোন পদপদবি নেই।”

বাড়ির মালিক এসএম শফিকুল ইসলামের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি জানান, তিনি কয়রা উপজেলার যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। তিনি ২০১৮ সালে কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন। তিনি একাধিক মামলার আসামি থাকলেও বর্তমানে সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন