আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে স্বল্পমূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পণ্য বিক্রির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে টিসিবি। ইতোমধ্যে ছোলা ও খেজুরের একটি চালান এসেছে। তেল, চিনি, ডাল ও চালের সাথে মাহে রমজানে বাড়তি হিসেবে থাকবে ছোলা ও খেজুর। টিসিবি নিয়োজিত ডিলারদের নির্ধারিত স্থানে শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। কোনো পণ্যের সংকট হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে নগরীতে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে শ্রমজীবী মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা ও মহানগরীতে এক লাখ ৪২ হাজার ৮৪৮ জন ফ্যামিলি কার্ডধারী রয়েছে। এর মধ্যে কেসিসি’র ৩১ টি ওয়ার্ডে উপকারভোগীর ভোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৪৬৩ জন এবং জেলার ৯ উপজেলায় রয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৮৫ জন।
তারা প্রতিমাসে একবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুই লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল ও ৫ কেজি চাল ডিলারদের মাধ্যমে ক্রয় করেন।
এছাড়া সারাদেশে ৫ লাখ কার্ডধারীকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি চালানের মাধ্যমে গোসলের সাবান, কাপড় পরিষ্কারের গুঁড়ো এবং ডিটারজেন্ট সাবান দেওয়া হয়। ওই চালানে খুলনা মহানগরীর ৫০ হাজার উপকারভোগী এই সুবিধা পেয়েছে। এর ফিডব্যাক ভালো হলে ভবিষ্যতে চালু রাখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, “এবার রমজান মাসে চাল, ডাল, তেলের সাথে ছোলা এবং খেজুর দেওয়া হবে। দু’মাস আগে একটি টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে খেজুরের চালান খুলনায় এসেছে। বাকিটা আগামী সপ্তাহেই চলে আসবে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে খেজুর খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। চালানের মজুদ হেড অফিস থেকে খুলনায় আসবে। রমজানের পূর্বে উপকার ভোগীদের কাছে পণ্যগুলো বিক্রি করা হবে।
টিসিবি খুলনার অফিস প্রধান ও যুগ্ম পরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, রমজানে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তেল, চিনি ও ডালের সাথে রমজানে খেজুর ও ছোলা যোগ করা হবে। খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৮ উপকারভোগী পণ্যগুলো কিনতে পারবেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ড ও জেলার ৯টি উপজেলায় ২৬১ জন ডিলার পণ্যগুলো তাদের দোকানে বিক্রি করবে। ছোলা ও খেজুরের দাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। মোবাইল এ্যাপসের মাধ্যমে এ পণ্যগুলো ভোক্তাদের মাঝে ডিলাররা বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, “জাতীয় নির্বাচনের কারণে এখনও পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে জানানো হয়নি। নির্বাচনে জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা ব্যস্ত আছেন। ফলে নির্বাচনের পরে পণ্য বিক্রির বিষয়ে সভা হবে।”
ট্রাকে সেলের বিষয়ে মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “এটা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। নতুন করে এটি চালু করতে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। ওখান থেকে সিদ্ধান্ত জানালে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি বাইরের ভোক্তারা পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।”
কেসিসি’র ৩০ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মরুফ রশিদের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে পরিবারের একাধিক ব্যক্তি কার্ড সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে ওই সকল কার্ড বাতিল করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সদস্যদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কার্ডগুলো আমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তাদেরকে দিতে পারছি না।”
খুলনা গেজেট/এনএম
