রূপসায় দৃর্বৃত্তদের গুলিতে আব্দুল বাছেত বিকুল হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী স্বর্ণাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গত পরশু রবিবার রাতে নিহত বিকুলের মা নাছিমা বেগম বাদি হয়ে রূপসা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এজাহারভুক্ত ৩নং আসামি টেরা হেলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে রামনগর গ্রামের মোঃ বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে।
এদিকে নিহত বিকুলের ফকিরহাটের গোলামের বটতলা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী রীতিকে নিয়ে ফকিরহাটের ওই বাসায় ভাড়া থাকতো। অস্ত্র উদ্ধার মামলায় বিকুলের দেহরক্ষী রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার রামনগর গ্রামের মন্টু হাওলাদারের ছেলে। গতকাল সোমবার বিকেলে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দু’জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।
হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন, খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নপাড়া এলাকার মোঃ রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ আমির হামজা মুন্সি, একই থানার দশগেট পুটিমারী এলাকার ফজলুল হক সরদারের ছেলে মিরাজ সরদার ওরফে কাউয়া মিরাজ, রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের তাফসির, বাগমারা গ্রামের ইনছারাফ হোসেনের মেয়ে ও মিরাজের বড় স্ত্রী স্বর্ণালী আফরোজা। এসব আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহারে বিকুলের মা উল্লেখ করেছেন, ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকুলসহ তার স্ত্রী রীতি তালিমপুর গ্রামের কদমতলা মাঠে পিকনিকে অংশ গ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয় এবং সেখানে অংশগ্রহণ করে। এজাহার নামীয় স্বর্ণালী আফরোজ ও মিরাজ সরদার ওরফে কাউয়া মিরাজসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন আসামি এবং মোঃ আমির হামজা মুন্সি, তফসির, টেরা হেলালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন রাত আনুমানিক ১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি কদমতলা মাঠের পূর্ব পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমার ছেলের বুকের বাম পাশে, ডান চোখের ওপর এবং নাকের ভেতর পিস্তল দিয়ে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দে পিকনিকস্থলসহ আশপাশেরর লোকজনসহ আমার ছেলের বউ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকুলকে আহত অবস্থা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
রূপসা থানার এসআই আশরাফুল আলম বলেন, “বিকুল হত্যাকাণ্ডে আটক টেরা হেলালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকী ৫ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আটক রাজু বিকুলের দেহরক্ষী ছিল। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ফকিরহাটের গোলামের বটতলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিদেশী পিস্তলসহ ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি বিকুলের। রাজুর বিরুদ্ধে এ ঘটনায় রূপসা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তার এবং পরকীয়ার বিষয়টি পুলিশ তদন্তে গুরুত্ব দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “খুলনা শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম কারাগারে রয়েছে। তার অবর্তমানে স্ত্রী রীতিকে বিয়ে করে বিকুল।”
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে রূপসা উপজেলার কদমতলা মাঠে দুর্বৃত্তরা গুলি করে বিকুলকে হত্যা করে। বিকুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
