বৃহস্পতিবার । ৫ই মার্চ, ২০২৬ । ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২

তিন আদালত বর্জন আইনজীবীদের, ১৯৬ মামলার কার্যক্রমে ধাক্কা; রাজপথে নামার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতসহ তিনটি আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এসব বিচারকের তিনটি এজলাসে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় শত শত বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

তবে এ ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিচারকরা এজলাসে উপস্থিত থেকে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় অধিকাংশ মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। আবার কিছু মামলায় বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেরাই আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে আইনজীবী না থাকায় কাঙ্ক্ষিত আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন সেবা প্রত্যাশীরা। এদিন তিনটি আদালতে মোট ১৯৬টি মামলার কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত ৬৭টি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে বিচারক ও বিচারপ্রার্থীরা উপস্থিত থাকলেও আইনজীবীরা অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন ৬৫টি মামলার তারিখ পরিবর্তন করেন। বাকি দুই মামলায় আসামিপক্ষের স্বজনেরা ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শন করে জামিন আবেদন করেন, তবে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া বিচারক আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে ১৯টি মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। এ আদালতেও আইনজীবীরা অনুপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের স্বজনেরা ৯টি মামলায় নিজেরাই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য ১০টি মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

অন্যদিকে, যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতে ৫৬টি দেওয়ানি ও ৫৫টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ১১১টি মামলার দিন ধার্য ছিল। আইনজীবীরা অনুপস্থিত থাকলেও বাদী-বিবাদীপক্ষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন। এ আদালতে ৭০টি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং বাকি ৪১টির তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

এদিন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিচারক ও আইনজীবীদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছি। তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে, খরচ বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা তো কোনো পক্ষ না, তাহলে আমাদের কেন এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে?”

এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, সমিতির সদস্যরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। আইনজীবীরা চান না ওই দুই বিচারক যশোরে দায়িত্ব পালন করুন। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে আলোচনা হলেও বিচার বিভাগ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। দ্রুত ওই দুই বিচারকের অপসারণের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় আইনজীবীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে আদালত বর্জনের এই কর্মসূচিতে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়লেও পরিস্থিতি সমাধানে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন