মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের জিপিএফ’র ১০ কোটি টাকা আত্মসাত, তদন্তে দুদক

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে জালিয়াতির আশ্রয়ে লোন দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বাগেরহাট জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কাইয়ুম হাওলাদারের নেতৃত্বে দলটি মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করেন।

দুদক কর্মকর্তা আবুল কাইয়ুম হাওলাদার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জালিয়াতির আশ্রয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকাগুলো লোন হিসেবে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে। এসব টাকার বিষয়ে শিক্ষা অফিস কোনো রেকর্ড দেখাতে পারেনি।

হিসাবরক্ষণ অফিসের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের জিপিএফ থেকে টাকা তোলা হয়েছে। তবে লেজার ও অনলাইনে টাকা জমার হিসেবে অসংগতি পাওয়া গেছে। অনেক নথিপত্রও তারা দেখাতে পারেনি।
সোনালী ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, জালিয়াতির আশ্রয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকাগুলো ক্যাশ তোলা হয়েছে। নিয়ম ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা যাবে। কিন্তু তা হয়নি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শেফাইনূর আরেফিন বলেন, শিক্ষকদের জিপিএফ থেকে টাকা তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষকের জিপিএফ থেকে টাকা তোলা হয়েছে তারও সঠিক হিসেব পাওয়া যায়নি। দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি এই মুহূর্তে দুদক তদন্ত করছে।

সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল থেকে লোন হিসেবে টাকা তোলা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে কালেকশন হিসেবে এবং ক্যাশ টাকাও দেওয়া হয়েছে। সকল লেনদেন হিসাবরক্ষণ অফিসের ‘এ্যাম্বুসড’ সিলের মাধ্যমে করা হয়েছে।

জিপিএফ থেকে জালিয়াতির আশ্রয়ে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক ও দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগে প্রায় ১ কোটি টাকা বেহাত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, কমপক্ষে ৭০ জন শিক্ষকের জিপিএফ থেকে লোন দেখিয়ে একটি চক্র টাকা আত্মসাৎ করেছে যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানা নেই।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী বলেন, তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ অফিসের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। টাকার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকার গড়মিল পাওয়া গেছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন