পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য আজ মঙ্গলবার থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। তিন মাস বন্ধ থাকার পর দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সব ধরনের বনজীবীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ খ্যাত বাংলার সবুজে ভরা প্রাণ সুন্দরবন। এ বছর সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন শুধু করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়া বাকী সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও নীলকমলসহ সমুদ্র তীরবর্তী এবং বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ, ট্যুরবোট, ট্রলার ও বিভিন্ন নৌযানে চড়ে যেতে পারবেন দর্শনার্থীরা। এছাড়া বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোটচালকরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য। ট্যুর ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের প্রত্যাশা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার পর অসংখ্য পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করবেন সুন্দরবনে।
সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে করমজল স্পটে এক কিলোমিটার ফুটটেইল নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পর্যটকদের সুন্দরবনের সকল তথ্য জানার জন্য করমজলে নির্মাণ করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার। আশা করছি, তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের ভিড় বাড়বে। তাই আমরা বন বিভাগে দায়িত্বরত সবাই বনের স্পটগুলোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন পর্যটকরা। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস পারমিট নিয়ে ওই দিন থেকে বনে প্রবেশ করতে পারবেন বনজীবীরাও।
তিনি আরো জানান, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল বন বিভাগ। মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তিন মাস সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধের পাশাপাশি সুন্দরবনে একমাত্র করমজল পর্যটন কেন্দ্র ছাড়া বাকী সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

