বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৬টায় চান্দেরকোলা এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদারকে। অন্যদিকে মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগমের নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে।
এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এদিন বিকেলে স্বজনদের কাছে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের ঘরের মধ্যে মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও সুরতহাল শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও, নিহত আহাদ ও তার মায়ের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং কোন মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুরিসহ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, আহাদের মা মনিরা বেগম, আহাদের নানি রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার।
এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও, মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার কারণ অনুসন্ধ্যান ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।
অন্যদিকে হত্যার কারণ সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত মনিরা বেগমের এক প্রতিবেশী জানান, মনিরা বেগম পরের বাড়িতে কাজ করলেও, ছেলেদের ও নিজের আয়ের টাকায় একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন। ওই ভবনের ছাদ দেওয়ার জন্য কিছু টাকা ছিল ঘরে। আর মনিরা বেগমের একমাত্র মেয়ের কিছু স্বর্নালঙ্কারও মনিরা বেগমের ঘরে ছিল, এসব কিছু মানুষ জানত। এসব চুরি বা ডাকাতি করতে এসেও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
আবার কেউ কেউ বলছে আহাদ ও তার মায়ের কোন শত্রু ছিল না। আশপাশে যারা প্রতিবেশী রয়েছে, তাদের সাথেও ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আহাদ ও তার মা যে ঘরে বসবাস করতে ওই ঘরের ৫শ বর্গফুটের মধ্যে আরও দুটি ঘর রয়েছে। সেসব ঘরের লোকজন কিছুই টের পায়নি এ জায়গাটায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে। আবার দুই দিন ধরে একটি পরিবারের কাউকে দেখা যাচ্ছে না এবং প্রতিবেশীরা কাউ খুঁজছে না। এটাও খুবই সন্দেহজনক।
নিহতের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমরা খুবই কষ্ট করেছি। মা ও ভাই যে ঘরে বসবাস করতেন, সেটি খুবই ভাঙাচোরা ছিল। মা, আমি ও ভাই সবাই মিলে আমরা খুবই কষ্ট করে, একটি ভবন করছিলাম। মার সাথে সবশেষ রবিবার রাতে কথা হয়েছে। মা আমাকে বলেছিলেন, ছাঁদ করার মতো টাকা আছে। ঘরে থাকা টাকা, মার এবং ভাইয়ের মুঠোফোন ও স্বর্না লঙ্কার কিছুই উদ্ধার হয়নি। আসলে কী হয়েছে জানি না, আমাদের চাওয়া একটাই হত্যাকারীদের বিচার, আর কিছু চাই না।
বাগেরহাট পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কচুয়া থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) একাধিক দল কাজ হত্যার রহস্য উদঘাটনে খুবই গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। নিহতদের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সব ধরনের সম্ভাব্যতাকে সামনে রেখে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

