সোমবার । ২২শে জুন, ২০২৬ । ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩

অকেজো ভ্যানে পানি বহন করে সংসার চলে খবিরের

চিতলমারী প্রতিনিধি

খবির দাড়িয়া বয়স ৬৫। জীর্ণ-শীর্ণ শরীর। মানুষের কাছে হাত পাততে বড় লজ্জা। তাই দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য হাড়ভাঙা সংগ্রাম। পুরানো জোড়াতালি দেওয়া ভ্যানে পানি বিক্রি করে চলত তাঁর জীবিকা। তাও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পানি বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ভ্যানটি এখন অকেজো। মেরামতের জন্য প্রয়োজন পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার মতো তেমন কেউ নেই। তাইতো বৃদ্ধ খবিরের কপালে আজ দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের পুকুরের পাড় থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট গভীরে পানি। সেখান থেকে দু’হাতে দুটি কলসিতে পানি ভরে পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে পাড়ে তুলছেন খবির। সেই পানি ভাঙা ভ্যানে উঠে ঢালছেন ড্রামে। ভ্যানের লক্কর-ঝক্কর কাঠের বডিটি দড়ি দিয়ে বাঁধা। দড়ি ছিঁড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবুও সেই ভ্যানে খবিরের পানি নিয়ে ছুটে চলা। কারণ এই পানি বিক্রি করতে না পারলে তাঁর দু’বেলার আহার জুটবে না।

উপজেলার আড়ুয়াবর্নি চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খবির দাড়িয়া জানান, “বাবা কেয়াম উদ্দিন দাড়িয়া ও মা মাঝু বিবি মারা গেছেন বহু বছর আগে। স্ত্রী ও দুই ছেলে ২০ বছর আগে তাঁকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে। সেই থেকে একা চলা।” তাই দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার জন্য হাড়ভাঙা সংগ্রাম করেন। বাজারে চায়ের দোকান ও হোটেলে রান্নার জন্য পুকুরের পানি বিক্রি করে তাঁর জীবিকা চলে। প্রতি কলস পানি ১০ টাকা এবং এক ড্রাম ১০০ টাকা। পানি বিক্রি করে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করেন। এ দিয়ে সে হোটেল থেকে খাবার কিনে খান। যেদিন আয় হয় না সেদিন না খেয়ে থাকেন। বর্তমানে ভ্যানের বডি ভেঙে লক্কর-ঝক্কর অবস্থা। তবুও চরম ঝুঁকি নিয়ে পানি টানছেন। তানা হলে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ভ্যানটি মেরামত করতে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত তিনি কখনো কোনো সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি।

চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল কর্মকার জানান, “খবির দাড়িয়া না খেয়ে থাকলেও কখনো ভিক্ষা করেন না। তাই তাঁর সহযোগিতার জন্য ভ্যানটি মেরামত বা একটি নতুন ভ্যানের ব্যবস্থা করা উচিত।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন