শুক্রবার । ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বুধবার রাতে বিয়ে হয় বাগেরহাটের মোংলার আহাদুর রহমান সাব্বির ও খুলনার কয়রা উপজেলার মারজিয়া আক্তার মিতুর। দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছিল আনন্দঘন ও উৎসবের পরিবেশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিয়ের গাড়িতে চড়ে কয়রা থেকে রওনা দেন দুই পরিবারের সদস্যরা। বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও বিয়ের গাড়ি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যায়। মুমুর্ষ অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শুধু বর আর কনেই নয়, মারা যায় গাড়ি চালকসহ দু’পরিবারের ১৪ জন সদস্য।

বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, পুত্রবধূ পুতুল বেগম এবং তার তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, মেয়ে ঐশী বেগম, নাতি আল সামিউল ফাহিম, নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, নানী আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম এবং গাড়ি চালক নাঈম শেখ সহ ১৪ জন।

নিহত মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, ‘কয়রা উপজেলার নাকশায় তাঁর ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে বেলা ১১টায় রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস। বিকেল ৪টার পর জেনেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে।’

কনে মিতুর পিতা সালাম মোড়ল বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে হয়েছে বুধবার রাতে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছেলে পক্ষ বাড়ি থেকে রওনা দেয়। দুর্ঘটনায় আমার মা রাশিদা বেগম, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ও আমার মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের মিতু ও লামিয়া।’

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দু’টি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।’

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, ‘দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ আছে।’

রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।’

গাড়ি চালক নাঈমের এক বন্ধু বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি নৌবাহিনীর গাড়ির সাথে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম সে মারা গেছে।’

 

খুলনা গেজেট/এএজে/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন