আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত শতাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাংলাদেশ পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এলেও এ বিষয়ে ঢাকা থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা স্পষ্ট করেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একই সঙ্গে আসন্ন গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন ও নদী সংক্রান্ত বিষয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বিগত সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া শতাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পুনর্মূল্যায়ন বা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনে ভারতীয় জাহাজের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বেগ বা পর্যালোচনা প্রস্তাব নয়াদিল্লির কাছে পাঠানো হয়েছে কি না।
জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরাও এই সংক্রান্ত বেশ কিছু সংবাদ গণমাধ্যমে দেখেছি, তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছুই জানানো হয়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও জানান, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যা যা করণীয়, ভারত সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে আসা এবং যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র ইতিবাচক বার্তা দেন।
তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানিসম্পদ ও নদীসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজম বিদ্যমান রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

