বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিয্যিক জাহাজগুলোর মুক্ত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই জলপথের কাছাকাছি এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে ইতালি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো গত কাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানী রোমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রোসেত্তো বলেন, “আমরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মুক্ত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রণালির কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের এ সিদ্ধান্তের প্রথম কারণ এই প্রণালি দিয়ে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে না পারে তাহলে তার অর্থনৈতিক ফলাফল হবে ভয়াবহ এবং দ্বিতীয় কারণ— এই জলপথকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের আছে।”
৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রণালির মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ময়উন বা পেরিম দখলের মাধ্যমে বাব আল মান্দেব প্রণালির পূর্ন নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। এখনও এই প্রণালি হুথিদের দখলেই আছে।
বাব আল-মান্দেবকে হুথিদের দখল থেকে মুক্ত করতে গত এক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে বিমান অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। সৌদির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন; কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সহায়তা ব্যতীত আর কোনো সহায়তা আপাতত দিতে পারবে না ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা সেখানে যত শিগগির সম্ভব যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চাই। এমনিতেই পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল আকার নিয়েছে, এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জাহাজ পাঠাতে দেরি হলে তা আরও জটিল হয়ে উঠবে।”
সূত্র : আলজাজিরা
খুলনা গেজেট/এএজে

