নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দমদম এয়ারপোর্ট সংলগ্ন সমস্ত মসজিদে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদসহ দোয়া

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মসজিদগুলোতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর সর্বভারতীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, এয়ারপোর্ট মসজিদ কমিটিসহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও অন্যান্য সংগঠনের দাবি, দান করা সম্পত্তির ওপর ১৮৯০ সালে নির্মিত গৌরীপুর জামে মসজিদটি এখন ১৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯২৪ সালে তৈরি হওয়া দমদম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের অজুহাতে ইতিপূর্বেও বেশ কয়েকবার এটি ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সময়েও এমন চেষ্টা করা হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর কঠোর প্রতিরোধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে এই মসজিদ নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। গত ১০ জুলাই এশার নামাজের পরদিন, অর্থাৎ ১১ জুলাই সকাল থেকে আধার কার্ড ও গেট পাস ছাড়া কাউকে ফজরের নামাজ আদায় করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, যেখানে ১০২ বছর ধরে কোনো অশান্তি ছাড়া নামাজ পড়া হচ্ছে, সেখানে আজ কেন নতুন করে এই মসজিদ উচ্ছেদের নীল নকশা করা হচ্ছে? তাঁরা জানান, নিরাপত্তার জন্য চেকিং সাধারণ বিষয়, যেমনটা যেকোনো কারখানায় ঢোকার ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। এর জন্য নামাজ বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ডাকে সারা বাংলায় কালো ব্যাজ পরে কালা দিবস পালন করা হয়। এর অংশ হিসেবে প্রায় তিন শতাব্দী পুরোনো মথুরাপুর আদি জামে মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়ার মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং ‘গুন্ডা দমন আইন’-এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে দমদম বিমানবন্দরের পরিপূরক হিসেবে নদীয়ার মায়াপুর কিংবা কলকাতার কালীঘাটে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন