যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।
সোমবার (১৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর নেতাদের অনুরোধে আপাতত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের ভাষ্য, তাকে জানানো হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’
এদিকে, সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে গেলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার বড় হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।’
তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এর আগে গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অচল হয়ে পড়ায় ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
পরে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো ধরে রেখেছে ইরান। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়ে গেছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

