মঙ্গলবার । ১৯শে মে, ২০২৬ । ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
মোবাইল প্রতারণায় অনেকেই স্বর্বশান্ত

প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ২৬ হাজার টাকা খুইয়ে ঠোঙা বিক্রেতা দিশেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬২ বছর বয়সী অসহায় সুলতান মাহমুদ। স্ত্রীকে নিয়ে খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ইউনিয়নের জাব্দীপুর রেললাইনের পাশে ভাড়া বাসায় থাকেন। দারিদ্রতার কারণে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। পেটের খোরাক আর প্রতিমাসে ঘর ভাড়া সামলাতে স্ত্রী আকলিয়া বেগমকে নিয়ে সারাদিন কাগজের ঠোঙা আর মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করেন। সেগুলো বিক্রি করে কোনোমতে সংসারের খরচ এবং প্রতি মাসে দুই হাজার ৭শ’ টাকা ঘর ভাড়া জোগাড় করেন। নিজের এই আর্থিক অসচ্ছলতা এবং দুরবস্থার মধ্যে শনিবার মোবাইল প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ২৫ হাজার ৭শ’ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কি করবেন ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না।

শুধু সুলতান মাহমুদ নয়, এভাবে মোবাইলে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হয়ে সর্বস্বান্ত এবং দিশেহারা হচ্ছেন দরিদ্র অসহায় অসংখ্য মানুষ। প্রতারণা শিকার অধিকাংশই থানায় গিয়ে অভিযোগ দেন না। ফলোশ্রুতিতে অধরা রয়ে যাচ্ছে এ সকল প্রতারকরা। প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যভস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় সুলতান মাহমুদ।

খুলনা গেজেটকে তিনি বলেন, ‘দুপুরে ভাত খেয়ে শুয়ে আছি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ০১৮৪২১৩৫১২৮ মোবাইল নাম্বার থেকে কল করে বলছে আপনার মোবাইলে ২২ হাজার ৫০০ টাকা গেছে। এরপর বারবার ফোন দিয়ে বলছে ভাইজান আমার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমি হাসপাতালে রোগী নিয়ে আছি। আমি তাকে বললাম মোবাইলে টাকা আসলে অবশ্যই ফেরত দিব। উনি বলে মোবাইলে মেসেজ দেখেন, টাকা আছে। মেসেজ দেখছি টাকা আছে। কিন্তু আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দিয়েছে প্রতারক। এরপর আমাকে ০১৮৭৮৬৭৭৮৩৪ এই বিকাশ নাম্বার দিয়ে বলেন। এই একাউন্টে টাকা পাঠালে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলে যাবে। এরপর আমি ধার দেনা করে ফুলবাড়িগেট মমতা ক্লিনিকের সামনে একটি বিকাশের দোকান থেকে পাঁচ কিস্তিতে মোট ২৫ হাজার ৭৬০ টাকা পাঠায়। টাকা নেওয়ার পর তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। সাথে সাথে আমার মোবাইলের অ্যাকাউন্টও খুলে যায়। এরপর তাকে আর ফোন করে পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমি অসহায় গরিব মানুষ। ঠোঙা এবং মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করে সংসার চালায়। ধার-দেনা করে মানবতা দেখিয়ে টাকাগুলো দিয়ে প্রতারিত হলাম। সে বহুত ছল চাতুরী করে আমার কাছ থেকে টাকাগুলো নিয়েছে। এখন আমি দিশেহারা। কি করবো, ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছিনা। আইনের আশ্রয় নিয়ে কি হবে? টাকা কি ফেরত পাব? এই প্রতারকদের কীভাবে ধরে শায়েস্তা করা যায়? প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন