মধ্যপ্রাচ্যে সাংবাদিকতার সীমাবদ্ধতা : প্রেক্ষিত আরব আমিরাত

ফরহাদ হুসাইন

“একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি তোলা কি সত্যিই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, নাকি তা কেবল এমন এক বাস্তবতাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা যা রাষ্ট্রের ‘নিরাপদ ও স্থিতিশীল’ ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক? আমিরাত সরকার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে।”

যুদ্ধ যখন কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ ছায়া ফেলে, তখন প্রথম যে জিনিসটি অন্ধকারে ঢাকা পড়ে তা হলো সত্য। মধ্যপ্রাচ্য বরাবরই বিশ্ব সাংবাদিকতার জন্য অন্যতম কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দীর্ঘদিন ধরেই সংকুচিত হয়ে আছে। কিন্তু ২০২৬ সালে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির পর এই সীমাবদ্ধতাগুলো এমন এক আকার ধারণ করেছে, যা নিছক যুদ্ধকালীন সতর্কতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমননীতি আরও গভীর হয়েছে। এই সতর্কবার্তা নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি অঞ্চলের তথ্যপ্রবাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে।

যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকের মৃত্যু নতুন কিছু নয়, তবু প্রতিটি মৃত্যু একটি করে অধ্যায় বন্ধ করে দেয়। সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটির (সিপিজে) নথি অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ লেবাননে জেজিন মহাসড়কে একটি সংবাদমাধ্যমের গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় আল-মানার টিভির সাংবাদিক আলি শোয়াইব, আল-মায়াদিন চ্যানেলের সাংবাদিক ফাতিমা ফতুনি এবং একজন ফটো সাংবাদিক নিহত হন। তেহরানে কাতার-অর্থায়িত সম্প্রচারকারী আল-আরাবি টিভির কার্যালয়ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে ইরানের বিচার বিভাগ যুদ্ধ চলাকালে একাধিক সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, সম্পদ জব্দসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ইসরায়েলও সামরিক নিরাপত্তার অজুহাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় শহরের আকাশরেখা দেখানো সরাসরি সম্প্রচারসহ নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত বিষয়বস্তু প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, যুদ্ধরত দুই পক্ষই যারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে অভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে।

আমিরাতের বাস্তবতা : চকচকে শহরের আড়ালে নীরবতার আইন
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও দেশটির সাংবাদিকতা ও তথ্য অধিকারের পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফ্রিডম হাউস ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো বহু বছর ধরে দেশটিকে সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতার জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ২০২৬ সালে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নিয়ন্ত্রণ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে কেবল যুদ্ধকালীন নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং তথ্যপ্রবাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে আমিরাত কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ-সম্পর্কিত ভিডিও ধারণ বা শেয়ার করার অভিযোগে অন্তত ১০৯ জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে বহু ব্যক্তিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয়। যুদ্ধ শুরুর পরপরই কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও বাসিন্দাদের ইরানি হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ, প্রকাশ কিংবা প্রচার থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে দেয়, যার জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

প্রশ্ন হলো একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি তোলা কি সত্যিই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, নাকি তা কেবল এমন এক বাস্তবতাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা যা রাষ্ট্রের ‘নিরাপদ ও স্থিতিশীল’ ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক? আমিরাত সরকার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে। সরকার একাধিক গণমাধ্যমের হিসাব বন্ধ করার নির্দেশ জারি করে, যার মধ্যে ছিল সৌদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী আল আরাবিয়া, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নূন পোস্ট, সৌদি সাংবাদিক মালেক আল-রুকি, আলজেরীয় সাংবাদিক আহমেদ হাফসি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মিশরীয় সাংবাদিক ওসামা গাভিশের অ্যাকাউন্ট। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও রাষ্ট্রের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়, অথচ তাদের কাজ ছিল প্রকাশিত সূত্রের ভিত্তিতে দৈনন্দিন সাংবাদিকতা মাত্র।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপসাগরীয় বিশেষজ্ঞ ড. মিরা আল হুসাইনের একটি পর্যবেক্ষণ এখানে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ: আমিরাতের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি বন্ধ করার পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে দেখা যায়নি। তার ভাষায়, আমিরাত সরকার কেবল বয়ান নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, বরং তা একচেটিয়াভাবে দখল করতে চাইছে, একটি পার্থক্য যা সূক্ষ্ম শোনালেও এর পরিণতি সুদূরপ্রসারী।

এই নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কেবল অনলাইন জগতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১৭ মার্চ ২০২৬ ফুজাইরাহ শহরে লন্ডনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করা এক আরব আলোকচিত্র সাংবাদিককে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় ছবি তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন আলোকচিত্র সাংবাদিক গ্রেপ্তার হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আমিরাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি দেখানো মূল ছবি প্রকাশ বন্ধ করে দেয় এক ধরনের স্বনিয়ন্ত্রিত নীরবতা, যা রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের চেয়ে কম বিপজ্জনক নয়। সিপিজে আরও জানিয়েছে, অভিযান ও ভারী জরিমানা সংক্রান্ত বহু ঘটনা প্রতিশোধের ভয়ে প্রকাশ্যে আসেনি, কারণ অনেক সংবাদ প্রতিষ্ঠান নাম প্রকাশ করে কথা বলতে অনিচ্ছুক। এই নীরবতাই বলে দেয়, যে ভয়ের সংস্কৃতি একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তা প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞার চেয়েও কার্যকরভাবে কণ্ঠরোধ করতে পারে।

তবে এই দমননীতি ২০২৬ সালের যুদ্ধ দিয়ে শুরু হয়নি। আমিরাতের এই ব্যবস্থা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আইনি কাঠামোর ফল। ২০২১ সালের ৩৪ নং ফেডারেল ডিক্রি-আইন রাষ্ট্রকে ‘মিথ্যা সংবাদ প্রচার’ এবং জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত বিষয়বস্তুর জন্য শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এরপর ২০২৩ সালের ৫৫ নং ফেডারেল ডিক্রি-আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম বিধিমালা ঢেলে সাজানো হয়, যা আমিরাত মিডিয়া কাউন্সিলকে ডিজিটাল প্রভাবক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একটি গণবিচারে অনেক সক্রিয়কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যাদের অনেকেই ইতিমধ্যে অনলাইন মন্তব্যের জন্য কারাবন্দি ছিলেন। ফ্রিডম হাউস ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে সমালোচনামূলক ওয়েবসাইট বন্ধ করা এবং সরকারি বয়ানের বাইরে যাওয়া সাংবাদিকদের আটক করার মাধ্যমেই ২০২৬ সালের এই ‘বয়ান একচেটিয়াকরণ’-এর অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধ কোনো নতুন প্রবণতা তৈরি করেনি; বরং তা আগে থেকেই বিদ্যমান একটি ব্যবস্থাকে আরও প্রকট করে তুলেছে মাত্র।

এর সঙ্গে যুক্ত আছে তথ্য অধিকারের এক গভীর সংকট। আমিরাত সরকারি তথ্যে স্বাধীন প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত আইন প্রত্যাখ্যান করে এবং স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদের শাস্তি দেয়। মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সাংবাদিকদেরও শাস্তির মুখে পড়তে হয়। দেশটিতে অধিকাংশ সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হয় রাষ্ট্রের মালিকানাধীন, নয়তো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন, এবং সরকারের সমালোচনা বা মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান। একটি রাষ্ট্র যখন নিজেই তথ্যের একমাত্র উৎস ও একমাত্র বিচারক হয়ে ওঠে, তখন নাগরিকের জানার অধিকার আর অধিকার থাকে না তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের অনুগ্রহ।

একক ঘটনা নয়, একটি আঞ্চলিক প্যাটার্ন
আমিরাতের এই চিত্রকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সিপিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার এই পাঁচটি উপসাগরীয় দেশ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাংবাদিক আটকের ক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে একই ধরনের যুক্তি ব্যবহার করেছে। এসব দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাধারণত ‘মিথ্যা তথ্য প্রচার’, ‘জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতিসাধন’, ‘যোগাযোগ যন্ত্রের অপব্যবহার’ এবং সাইবার অপরাধ বা গুজব-বিরোধী আইনের মতো অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে বিচারে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যত্রও একই প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর থেকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে গাজায় স্বাধীনভাবে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বলে ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, আর ইরাকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমন করছে ‘সামাজিক শান্তি রক্ষা’র মতো অস্পষ্ট যুক্তিতে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের সূচক অনুযায়ী ইরান তালিকার তলানিতে, আর উত্তর আফ্রিকায়ও সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতার অবনতি এখন কাঠামোগত রূপ নিয়েছে।

সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদাহর একটি মন্তব্য এই পুরো চিত্রকে এক বাক্যে ধরে ফেলে: জনসমক্ষে যা জানা যাচ্ছে তা কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে না আসা অনেক ঘটনা সাংবাদিকদের আত্ম-সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং সত্যের প্রবাহকে উৎসেই রুদ্ধ করে দিচ্ছে। তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তা আরও উদ্বেগজনক ইতিহাসের নজির অনুযায়ী যুদ্ধকালীন এই জরুরি বিধিনিষেধগুলো প্রায়ই যুদ্ধ শেষ ফটো সাংবাদিক হয়। আমিরাতের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশটির আইনি কাঠামো ইতিমধ্যেই এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কোনো সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক তাগিদ দেখা যাচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে সাংবাদিকতা আজ এক জটিল ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত এই সংকটের একটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ। কারণ এই দেশটি যতটা নিজেকে বিশ্বের সামনে আধুনিক, উন্মুক্ত ও ভবিষ্যৎমুখী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে, ততটাই তার তথ্যনীতি কঠোর, অস্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রণমুখী। যুদ্ধ, কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং প্রযুক্তিগত দমননীতির সম্মিলিত প্রভাবে অঞ্চলটির প্রায় প্রতিটি দেশেই স্বাধীন সাংবাদিকতা আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে বলছে, নিরাপত্তার অজুহাতে ব্যাপক ও সামগ্রিক বিধিনিষেধ প্রকৃতপক্ষে সংঘাতের বয়ান নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে, যা জনগণের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। আমিরাতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, চকচকে অবকাঠামো ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তি দিয়ে তথ্যের অধিকার কেনা যায় না। এই পরিস্থিতিতে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা কেবল সাংবাদিকদের নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও জবাবদিহিতার জন্যই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক : খুলনা গেজেট-এর মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন