বিশেষ সম্পাদকীয়

নিরপেক্ষতা ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অবিচল খুলনা গেজেট

মোঃ মাহমুদ আহসান

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ব থেকে দেশের সাংবাদিকতা দু’ভাগে বিভক্ত। একটি ধারা শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে, অপরটি বিরোধী মতের। শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে থাকা এ অংশটি তোষামোদিতে ব্যস্ত থাকত। তাদের চোখে শাসকদের দোষ, ত্রুটি ও অপরাধ ধরা পড়ত না। বরং, তারা উৎসাহিত করত। জুলাই-আগস্টের সময় তাদের এই মানসিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক নীতিমালা, পেশাগত নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার মানদণ্ডের চশমা দিয়ে কোনো পক্ষই দেখেনি। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সোসাইটি অফ প্রোফেশনাল জার্নালিস্ট এর প্রথম নীতি হলো Seek truth and report it. এর অর্থ সত্য অনুসন্ধান কর, তারপরে প্রতিবেদন প্রকাশ কর। দ্বিতীয় নীতি হলো Act Independent অর্থাৎ স্বাধীন থাকো। কোনো রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও আর্থিক প্রভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা যাবে না। গণমাধ্যমকর্মীর প্রথম দায়িত্ব হলো সত্য প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকা। কোনো দলের প্রতি অতি আগ্রহ দেখানো নয়। সরকারের প্রতিও দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণ নয়।

ইউনেস্কোর সাংবাদিকতা নির্দেশিকায় বারবার বলা হয়েছে, সংবাদকর্মীর বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তার নিরপেক্ষতা, বহুমতের প্রতি সম্মান এবং প্রমাণভিত্তিক উপস্থাপনার ওপর। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আচরণ বিধিও একই শিক্ষা দেয়। সংবাদ প্রকাশে সতর্কতা, ন্যায়পরায়ণতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং অযাচিত পক্ষপাত বাড়ানোর কথা সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবাদ কর্মীর শক্তি তার বিশ্বাসযোগ্যতা। আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতির ক্ষমতা বদল হয়, সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু সাংবাদিকতার নৈতিকতা বদলায় না।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে আমাদের প্রিয় দৈনিক খুলনা গেজেটের আত্মপ্রকাশ। এই এক বছরের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে শৈত্যপ্রবাহ, ভূমিকম্প ও অতিবৃষ্টি দক্ষিণ জনপদকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ সময়ে মব হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ও বিশ্বকাপের আসর বসেছে। নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পরীক্ষায় আমরা নিরপেক্ষতার ছাপ রেখেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দর্শন, আদর্শ, অর্থনীতি, ইশতেহারকে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি। বড় কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এটি আমাদের গর্ব। গত এক বছরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে ছিল না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খুলনার রাজপথে রক্ত ঝরেছে। পাঠক পরদিন আমাদের পত্রিকায় বিস্তারিত বিবরণ পেয়েছে। পাঠক ভেতরের খবর চায়। আমরা সেটুকু তুলে ধরতে পেরেছি। রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মাদকের কালো থাবা ও দখলদারির বিরুদ্ধে লেখনী অব্যাহত রেখে পাঠকের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছি। এটি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অপ্রিয় হলে সত্য ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্যে প্রত্যুষে খুলনা গেজেট পাঠকের হাতে পৌঁছেছে।

গত এক বছরে আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলাম। আগামী দিনগুলোতে এ প্রতিশ্রুতি পালনে অটল থাকব। গেল এক বছরে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী সংবাদকে প্রাধান্য দিয়েছি। সময় উপযোগী উপসম্পাদকীয় মানুষের মন জয় করেছে। এ কারণেই খুলনা গেজেট পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ধারা আগামীতে থাকবে। সততা স্বচ্ছতাই আমাদের মানদণ্ড। এ আলোকেই হবে আমাদের আগামীর পথচলা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন