একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে পিসি রায়

কাজী মোতাহার রহমান

ভারতবর্ষে তখন ব্রিটিশ শাসনামল। মহাত্মাগান্ধির নেতৃতে¦ অসহযোগ আন্দোলন ও মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে খেলাফত আন্দোলন চলছে। বাঙালি স্বরাজ চায়। ভারতবর্ষ জুড়ে বাঙালি ফুঁসে ওঠে। এমনি একটি সময় বিদ্রোহী কবিতার আত্মপ্রকাশ। কবি নজরুলের অমর সৃষ্টি, কালজয়ী কবিতা।১৯২২ সালে মোসলেম ভারত নামক মাসিক পত্রিকায় (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়) প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ভারতবর্ষ জুড়ে সাড়া জাগায়। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান এ কবিত অনুপ্রেরণা যোগায়। যুগ যুগ ধরে জাতির কাছে এ কবিতার লাইনগুলো বিদ্রোহীর প্রতিচ্ছবি।

ভারতবর্ষে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে কবির লেখা প্রবন্ধ ও কবিতা সহায়ক ভুমিকা পালন করে। এরই এক পর্যায়ে ১৯২২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর ধুমকেতু পত্রিকায় আনন্দময়ীর আগমনি শিরোনামে কবিতা ছাপা হয়। ব্রিটিশ সরকার কবির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি করে। পুলিশ কবিকে গ্রেপ্তার করে আলীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। এ কবিতার মধ্যদিয়ে রাজদ্রোহিতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠায় বিচারক কবিকে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

জাতি ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, কংগ্রেস, স্বরাজ পার্টি, মুসলিম লীগ, কমিউনিষ্ট পার্টিও স্বোচ্চার হয়। কাজী নজরুল জাতির কাছে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত পায়। তার রাজনৈতিক চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কমরেড মুজাফ্ফার আহমেদের সন্নিধ্যে মাকসবাদী দশনে শিক্ষা নিলেও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ পার্টির পক্ষে অবলম্বন করে কবি। দেশব্যাপী কবির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। মহাত্মা গান্ধি নেতাজি সুভাষ বোস, কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, শেরে এ বাংলা একে ফজলুল হক, চিত্র রঞ্জন দাশ, ড. কুদরত ই ক্ষুদার কাছে কবির গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়।

এমনই একটি দিন ১৯২৯ সালে ১৫ ডিসেম্বর। কবির দেশপ্রেম, স্বাধীনতার পক্ষে স্বোচ্চার ভুমিকা এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জনগণের পক্ষ থেকে এলবার্টহলে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয় (রঞ্জিত কুমার মন্ডল রচিত আচার্যপ্রফুল্ল চন্দ্র রায়)। সংবর্ধনা মঞ্চে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ম্যাজেস্ট্রেট এস ওয়াজেদ আলী, ড. কুদরতই খুদা ও সাহিত্যিক জলধর সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন রসায়ন বিজ্ঞানি খুলনার সন্তান স্যার পিসি রায়। সভার সভাপতি বিদ্রোহী কবির হাতে সোনার দোয়াত কলম তুলে দেন। এটি কবির জীবনের সেরা মুহুর্ত। এ অনুষ্ঠানে সভাপতি বলেন, বিদ্রোহী কবিকে সম্মানা জানাতে আমরা সকল শেণির মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছি। কবির মধ্যে মৌলিকত্ব রয়েছে। তার লেখনীতে দেশপ্রেমের ছবি ফুটে ওঠে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন