ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন মডেল, অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। চিকিৎসার এক পর্যায়ে এসে মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন সামিয়া।
ন্যাড়া মাথার ছবি প্রকাশ করে নিজের রূপ ও অনুভূতির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নতুন স্ট্যাটাসে জীবনের কঠিন সময়, বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্তের সৌন্দর্য নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি লেখেন, ‘জীবন সবসময় আমাদের ইচ্ছেমতো গল্প লেখে না, কিন্তু প্রতিটি অধ্যায়ের মাঝেই লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো সৌন্দর্য। পরিস্থিতি যেমনই হোক, বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তই একেকটি উপহার।
জীবন সুন্দর- শুধু তাকে সুন্দর করে দেখার চোখটা আমাদের নিজের হতে হয়।’ সামিয়ার এই কথার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক লড়াইয়ের গল্প।
ক্যান্সারের চিকিৎসার অংশ হিসেবে এবার তাকে হারাতে হয়েছে মাথার চুল। কয়েক দিন আগে ন্যাড়া মাথার ছবি প্রকাশ করে নিজের নতুন রূপকে গ্রহণ করার সাহসের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে চুল হারানোর পর ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া পোস্টে সামিয়া লিখেছিলেন, ‘কখনো ভাবিনি, জীবনে আবার এমন একটা সময় আসবে- যখন আমার মাথাটা আবার পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যাবে!’ বড় হয়ে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া চুল হারানোর অভিজ্ঞতা সহজ নয় জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, জীবনের কিছু পরিবর্তন পছন্দের না হলেও মেনে নিতে হয়।
নিজের ন্যাড়া মাথাকে নিয়ে কোনো সংকোচ নেই জানিয়ে সামিয়া আরও লিখেছিলেন, ‘সৌন্দর্য কেবল আয়নায় দেখা কোনো বিষয় নয়। নিজের প্রতি ভালোবাসা ও নিজের বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে পারার মধ্যেই প্রকৃত সৌন্দর্য।’ চুল থাকুক কিংবা না থাকুক, নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করাই প্রকৃত সৌন্দর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্যান্সারের সঙ্গে সামিয়ার লড়াই অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের মার্চে নিজের ক্যান্সার জয়ের গল্প প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালের দিকে তার শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয় এবং পরীক্ষায় চতুর্থ স্টেজের কথা জানা যায়। প্রায় দুই বছর চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও কাজ শুরু করেন।
তবে প্রায় তিন মাস আগে পরীক্ষায় তার শরীরে দ্বিতীয়বার ম্যালিগন্যান্ট শনাক্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হাই-গ্রেড কার্সিনোমা। বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন সামিয়া। আর সেই চিকিৎসারই অংশ হিসেবে মাথা ন্যাড়া করতে হয় তাকে।
কঠিন এই সময়েও সামিয়ার কণ্ঠে তাই হতাশার বদলে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা। নিজের পরিবর্তিত চেহারাকেও জীবনের একটি গল্প হিসেবে দেখছেন তিনি- যে গল্পে আছে কঠিন সময়, সাহস, গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা। তার ভাষায়, ‘এই সময়টাও একদিন পেরিয়ে যাবে।’
খুলনা গেজেট/উউরা

