অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার নেই

মোস্তাকিমের বাবার আর্তনাদ ‘আমার সোনারে তোমরা ফিরিয়ে দাও’

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কিছু মানুষের ভিড়। সেই ভিড়ের মাঝে শুধু একটি আর্তনাদ। আর্তনাদ ছিল দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত মোস্তাকিমের বাবা শহিদুল মোড়লের। তার কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। আর্তনাদ ছিল আমার সোনারে তোমরা ফিরিয়ে দাও। তার কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা পার্থিব জগতের কারও নেই। এই অর্থ অবলোকন করে উপস্থিত সকলের চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে থাকে। তারা সকলে নিহত মোস্তাকিমের বাবাকে সান্তনা দিতে থাকেন।

মোস্তাকিমের বাবা কিছুটা শান্ত হলে তিনি বলেন, আমার ছেলে খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটির অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল। গত তিন মাস সে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে বসে আছে। সারাদিন বাড়িতে থাকে। সন্ধ্যা হলে আলকাতরা মিলের সামনে আদু ভাইয়ের চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়। বুধবার সন্ধ্যায় মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর মোবাইলে কথা বলতে থাকে। এর মাঝেই দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের সাথে এলাকার কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কারও সাথে কোনোদিন মুখ কালা করে কথা বলেনি। কেন তার এ পরিস্থিতি হলো। কারা তাকে হত্যা করল। আমি আল্লাহর কাছে বিচার চাই। আল্লাহ তুমি আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও। আমি আমার সন্তানকে একটু বুকে জড়িয়ে ধরব। আর কোনোদিন তোর সাথে কোনো দেখা হবেনা।

তিনি আরও বলেন, আমার সন্তান একজন পরোপকারী ছিল। কারও বিপদ হলে বাড়ি থেকে ছুটে যেত। আর কারও উপকার করতে বাড়ি থেকে বের হবে না সে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে পাগলপ্রায় শহিদুল মোড়ল। কথা বলার মাঝেমাঝে মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

নিহত মোস্তাকিমের ভগ্নিপতি মোঃ রাজু বলেন, সন্ধ্যার সময় মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হয় সে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালুকদার কমিউনিটি সেন্টারের পাশের রাস্তা দিয়ে চারটি মোটরসাইকেল প্রবেশ করে। তাকে হত্যা করার জন্য আরও তিনটি মোটরসাইকেল বাইরে অবস্থান করে। মোস্তাকিমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চারজন যুবক তার কাছে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তিনি আরও বলেন, আমার জানা মতে হত্যা করার মতো এমন কোনো কাজ সে কোনো দিন করেনি। এ হত্যার বিচার আমরা চাই। বুধবার রাত থেকে আমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে অবস্থান করছি। বাসায়ও যায়নি। লাশ নিয়ে বাড়িতে যাব।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই আশরাফুল আলম বলেন, ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ বাড়িতে নিয়ে যাবে মোস্তাকিমের পরিবার। তারা থানায় কোনো মামলা করতে চাইনি। অনেক বোঝানোর পর বুধবার গভীর রাতে মোস্তাকিমের বাবা শহিদুল মোড়ল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আমরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিহত যুবক খুলনা কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আমরা পাচ্ছি। সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মোস্তাকিম নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমরা হত্যাকারীদের খুব কাছাকাছি আছি যে কোনো সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করে মিডিয়াকে জানানো হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন