ভারতের কলকাতা নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী নাগরিক সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এসএম আলীমুজ্জামান সাজুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সোয়া ১২টার দিকে ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
ভোমরায় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবি ভোমরা বিওপির সহযোগিতায় নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান লিপুর নিকট মরদের হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজিব বালা ও বিজিবি ভোমরা ক্যাম্প কমান্ডার জেসিও মোঃ আফজাল হোসেন এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের এ এস আই পাছাকাঁথি উপস্থিত ছিলেন।
ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান লিপুসহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত এস এম আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু (৪৫) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। আছরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালিগঞ্জের বরেয়া গ্রামে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্বজনেরা মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাড়িতে কবর খনন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরই দাফনের কার্যক্রম শুরু হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আলিমুজ্জামান সাজু গত ৮ আগস্ট ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে গমন করেন। তার পাসপোর্ট নাম্বার এ ১১৭২০১২৭। কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রীটের আবাসিক হোটেল ‘শিখা ইন ‘ তিনি অবস্থান করেন। উক্ত হোটেলে অবস্থানকালে ১৯ আগস্ট রাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
অপরদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন হয়েছে। তার দুই সন্তান ভারতে থাকায় শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামী ভবেষ কুমার সরকার সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার রেবতীর দেবর তপন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

