ভ্যাপসা গরম আর মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খুলনাসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারা। একদিনেই এই অঞ্চলে ২২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। আর একদিনের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। দিনে ও রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হওয়ায় জনজীবনে তীব্র অস্বস্তি নেমে এসেছে। বিদ্যুতের ঘাটতির সঙ্গে ভ্যাপসা গরম আর মশার উপদ্রবে নাকাল হয় খুলনাবাসী।
বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট মোকাবিলা করতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকছে না।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ওজোপাডিকো এলাকায় মোট ৮০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে এক দিনেই ২২৯ মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু খুলনা জোনেই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৫ মেগাওয়াটে, যেখানে খুলনা জেলা ও নগরী এলাকাতেই বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি ৬০ মেগাওয়াট।
এর আগে গত সোমবার ৭৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৬১৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১৫১ মেগাওয়াট। একদিনের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের।
স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন গৃহিণী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা ও যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
নগরীর খালিশপুরের বাসিন্দা সোহাগ আসিফ বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একপ্রকার বলা চলে, যাচ্ছে-আসছে। এতে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতে এবং ভোরেও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ঘুমের ঘাটতি হচ্ছে। সঙ্গে বেড়েছে মশার উপদ্রবও। সবমিলিয়ে খুব বেশি দুর্ভোগে আছি আমরা।
নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার শিক্ষার্থী নাজিয়া সুলতানা বলেন, দিনের মধ্যে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় অনেকটা ব্যাঘাত ঘটেছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্ট ও বিভিন্ন একাডেমিক কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু বার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এসব কাজ ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা আরও কষ্টকর হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে পড়তে বসে পড়াশোনায় মনোযোগও নষ্ট হয়। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় পড়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হয়। পরে বিদ্যুৎ আসার পর আবার পড়তে বসতে গিয়ে আগের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে।
নগরীর তেতুলতলা এলাকার শিক্ষার্থী উম্মে রায়হানা জাহান বলেন, প্রচলিত কথায় আছে-বিদ্যুৎ এখন যায় না, বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে। বর্তমানে বিদ্যুতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা যেন লুকোচুরি খেলার মতো। বিদ্যুৎ আসার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আবার চলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পড়াশোনা দুটোই ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে রাতে নিয়মিত পড়াশোনা-কোনোটিই ঠিকমতো করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, খাওয়া-দাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় ওয়াশরুমে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো সময়মতো করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে, অন্ধকার ও গরমের মধ্যে মশার উৎপাত আরও বেশি হয়।
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। খুব শিগগিরি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন
খুলনা গেজেট/এএজে

