রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সংঘাতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর ১১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ অবস্থায় আছেন আরও ১১৪ জন। গত কাল রবিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন ৪৫৯ জন পেরুভিয়ান নাগরিক। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং নিখোঁজ অবস্থায় আছেন কমপক্ষে ১১৪ জন এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় আছেন ৩ জন। বাকি নাগরিকদের মধ্যে ৩১ জনকে আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে দুই দেশের দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মোট ৪ জন নাগরিক ফিরে এসেছেন পেরুতে। তাদের মধ্যে ২ জন শারীরিকভাবে বেশ আহত ছিলেন।
বিবৃতিতে নাগরিকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ভুয়া চাকরির প্রস্তাবের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, এসব চাকরির প্রস্তাব আসলে মানবপাচারকারীদের ফাঁদ।
বিদেশি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হলে নাগরিকদের সরকারি অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও বলা হয়েছে, যেসব গ্যাং এই মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত, নাগরিকরা যেন তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।
যেসব নাগরিক দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের রাশিয়ায় পেরুর দূতাবাস কিংবা পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’র দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
পেরুর জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া পেরুভিয়ানদের পরিবারগুলো লিমায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে তাদের আত্মীয়দের, বিশেষ করে যারা আহত হয়েছেন, তাদের পেরুতে ফিরিয়ে আনার এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পরিবারগুলোর একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা এমন তথ্য পেয়েছেন যা থেকে বোঝা যায় যে অন্তত ১৫০ জন পেরুভিয়ান নিহত হয়েছেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সংখ্যাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
খুলনা গেজেট/এএজে

