পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গার চক গ্রামে ভড়েঙ্গা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর মাঝখানে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে রড বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়কও না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শতশত স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর মাঝ বরাবর বড় দুটি অংশ ভেঙে নিচের ফাঁকা অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। আশপাশে কংক্রিটে ফাটল এবং ক্ষয় স্পষ্ট। সেতুর দুই পাশের রেলিংও ভেঙে গিয়ে লোহার রড বেরিয়ে রয়েছে, যা এর নাজুক অবস্থা আরও স্পষ্ট করেছে। সেতুর নিচের পিলার ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশেও দীর্ঘ সময় জনিত ক্ষয় এবং ফাটলের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম মন্ডল বলেন, “বহু বছর ধরে সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এটি খড়িয়া সবুজ পল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন। যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “ব্রিজটি প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ঢালাই নষ্ট হয়ে গেছে। লোহার রড বের হয়ে গেছে। ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন একটা ব্রিজ হলে এলাকার মানুষ ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, “ব্রিজটির চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। বরাদ্দ পেলে নতুন একটা ব্রিজ করার জন্য প্রকল্প দেওয়া হবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

