খুলনায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই তারা বেশি দরে বিক্রি করছেন নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটি।
নগরীর কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজি ওজনের বসুন্ধরা সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ওমেরা ১ হাজার ৫৯০ টাকা, বেক্সিমকো ১ হাজার ৬০০ টাকা, সেনা ১ হাজার ৫৬০ টাকায় বিক্রি করছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা। অথচ গত ২ জুলাই ১২ কেজি ওজনে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৫২৮ টাকা। যা গত ১৬ দিনেও কার্যকর করা হয়নি।
নগরীর সামসুর রহমান রোডের গ্যাস ব্যবসায়ী আনাম এন্টারপ্রাইজের এক কর্মকর্তা বলেন, বেক্সিমকো কোম্পানীর পরিবেশক আমরা। সরকার নির্ধারিত দরে গ্যাস বিক্রি করলে আমাদের কিছু থাকবে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোম্পানি থেকে গ্যাস আনতে গেলে আমাদের পরিবহণ খরচ দিতে হয়। তাছাড়া ক্রেতাদের বাড়ি গ্যাস পৌছানোসহ ১ হাজার ৬০০ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের লস হবে।
এদিকে খুলনার বাবুখান রোডের আসাদ স্টোরের কর্মকর্তা হাসিব এ প্রতিবেদককে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বলতে থাকেন। গণমাধ্যমের কর্মী পরিচয় পেয়ে আবার দাম কমিয়ে দেন।
মিস্ত্রিপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, খুলনার এমন অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা সরকার নির্ধারিত দরের থেকে আরও ১০০ টাকা কমে গ্যাস বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু তারা জনগণের দুর্ভোগের কথা না ভেবে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
সরকারি ঘোষণার পরও খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পেয়ে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ প্রকাশ করে সামসুর রহমান রোডের বাসিন্দা রফিক ঢালী বলেন, এর পেছনে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কারিসাজি রয়েছে। ডিলাররা সরকারের বেঁধে দেওয়া মানছেন না এবং নিজেদের মনগড়া অতিরিক্ত মুনফায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।
পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, দাম তদারিকি করার জন্য রয়েছে ভোক্তা অধিকার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ নিয়মিত বাজার তদারকি করা। কিন্তু তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনা। এ প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত তাহলে সরকার নির্ধারিত দামে ব্যবসায়ীরা সব জিনিষ বিক্রি করতে পারত। আর জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হত না।
খুলনা গেজেট/এনএম

