যোগী সরকারের নোটিশ: বুলডোজারের মুখে জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা রামপুর। স্বাধীনতা সংগ্রামী মাওলানা মোহাম্মদ আলী জৌহরের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলাতেই ২০০৬ সালে স্থাপিত হয় ‘মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রায় ৩০০ একর জমির ওপর নির্মিত এই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল স্থপতি সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খান। বর্তমানে তিনি ও তার ছেলে আবদুল্লাহ খান রামপুর জেলে বন্দি রয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই ৩০০ কোটি টাকার বিশ্ববিদ্যালয়টি এবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বুলডোজার অভিযানের মুখে পড়েছে।

রামপুর পৌরসভা কর্তৃক জারিকৃত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভবনই সরকারি নিয়ম ও নীতি লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ইস্যু করা ওই নোটিশে কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভবনগুলো নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় প্রশাসন নিজ দায়িত্বে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেবে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, প্রকৌশল ও কৃষিসহ বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা। এর কিছু ভবন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হোয়াইট হাউস’ এবং কিছু ভবন ভারতীয় সংসদের ‘নর্থ ও সাউথ ব্লকের’ আদলে নির্মিত। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪০ হাজার বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার, ৫০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম এবং একটি হকি স্টেডিয়াম রয়েছে।

একটি বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার এই সরকারি উদ্যোগে দেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদারপন্থী ও সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ—বিজেপি শাসনামলে ভারতের মুসলিম ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রাচীন স্থাপনা ও অধিকার হরণের যে ধারা চলছে, এটি তারই অংশ।

কলকাতার ‘মহম্মদ আলী পার্ক’-এর নাম বদলের বিতর্কের পর এবার রামপুরের এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংসের মুখে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন