দেড় যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রূপসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

এস এম মাহবুবুর রহমান ও শাহরিয়ার মানিক

দিন যায়, মাস আসে, মাস যায় বছর গড়ায়। এভাবে প্রায় দেড় যুগ অতিবাহিত হলেও রূপসা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এ সড়কের সর্বত্রই সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। অনেক স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে ঢেকে থাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও রাস্তার কোনো চিহ্ন বলতে নেই। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বাড়ছে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠেছে ১৮াট হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা, বহু সংখ্যক বরফকলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে বিশাল জায়গা জুড়ে বেশ কিছু বালুর বেড। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রতিদিন ভারী যানবাহনের চাপ থাকলেও সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে, বেড়েছে পরিবহন খরচ। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলাকাবাসীর মতে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

এ সড়কের রবের মোড় সন্নিকটে অবিস্থত এলপি গ্যাসের ডিলার সাহরা সুপার স্টোরের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। একসময় দিন রাত ২৪ ঘণ্টা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতো। এখন রাত দূরের কথা দিনের আলোতে মানুষ পায়ে হেঁটে চলা করতে পারেনা। পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের কোথাও ভালো নেই। বর্ষ মৌসুমে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অনেকবার সরকারের পরিবর্তন দেখেছি কিন্তু রাস্তার পরিবর্তন দেখা হলো না। যেই এ আসনের এমপি হন, যারা এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সবাই শুধু আশ্বাসের বাণী শোনায়। কিন্তু সড়কের যে দুর্ভোগ লাঘব হয় না। নতুন সরকারের কাছে আমরা এ সড়কের পরিবর্তন চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন মাহমুদ বলেন, এই সড়ক নিয়ে আমরা বছরের পর বছর খুবই দুর্ভোগে আছি। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সড়কের খানাখন্দে পড়ে প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল, মোটরচালিত ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইক, পিকআপ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জনগণের এসব দূরাবস্থার কথা বিবেচনা করে আশা করি বর্তমান সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করবে। এটা আমাদের সকলের প্রাণের দাবি।

মাছ কোম্পানির শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চিংড়ি শিল্পের সিংহভাগ কোম্পানি এই রাস্তার পাশ দিয়ে অবস্থিত। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার করা হলে আমরা উপকৃত হব।

নৈহাটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াজ হোসেন বলেন, মাছ কোম্পানির মালিকদের কিছু অবহেলা আছে। তারা এমনভাবে দেয়াল দিয়ে ঘিরেছে যার কারণে রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করতে সমস্যা হচ্ছে এবং যেটুকু ড্রেন রয়েছে সেখান থেকে পানি সরানো কষ্টকর। এ কারণে বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যাচ্ছে। এ রাস্তাটির বেশি ক্ষতি করছে সার কোম্পানি লোড গাড়ি। ইতিমধ্যেই আমরা রাস্তাটি প্রাথমিক সংস্কারের জন্য চেষ্টা করছি। আমাদের এমপি হেলাল ভাইয়ের আন্তরিকতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ।

রূপসা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কটি ইতিপূর্বেই আম্পান প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য জুন মাসে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি স্টিমেট তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা যাবে। যে-সব জায়গায় বেশি সমস্যা সেখানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে কাজ করা হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন